মেহজাবিনকে বাঁচতে দিন !

মেহজাবিন

যেকোনো মৃত্যু অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখের, শূন্যতার ! একজন মানুষ সূর্য ডোবা দেখতে পারবে না। বৃষ্টিতে ভিজতে পারবে না। চায়ের কাপে বন্ধুদের সাথে ঝড় উঠাতে পারবে না। এরচেয়ে বড় দুঃখজনক আর কি আছে। লাবিব মরে গেছে। কোনো কিছুতেই আর লাবিবকে ফেরত আনা যাবে না। কিন্তু এই মৃত্যু কি থামানো যেত না? অবশ্যই যেত…

লাবিবের মৃত্যুর জন্য দোষ দেওয়া হচ্ছে মেহজাবিনকে। মেহজাবিন কি করতে পারত? ভালোবাসাহীন একটা সম্পর্ককে টেনে আরো লম্বা করতে পারত। কিন্তু শেষ তো একদিন হতই। মেহজাবিন তো নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছিল যে, লাবিবের সাথে সে ভালো নেই। আর থাকতে চায় না। মেহজাবিন তার জায়গায় সৎ ছিলো।

তাহলে লাবিব কেন সত্যটা মেনে নিলো না?

এই শহরে প্রতিদিন কত প্রেম শেষ হয়। কতজন ছেড়ে চলে যাচ্ছে। সবাই কি এজন্যে মরে যাচ্ছে? প্রেম জীবন না। জীবনের একটা ক্ষুদ্র অংশ হলো প্রেম। এই ক্ষুদ্র অংশের জন্য জীবন শেষ করে দেওয়াটা অন্যায়, পাপ। এটুকু কি কেউ লাবিবকে বোঝাতে পারেনি? কেন পারেনি? এই ব্যর্থতা তাদের। এবং তারাই মেহজাবিনের উপর সব দোষ চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাচ্ছে…

লাবিবের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশী কষ্ট তার বাবা-মায়ের। এটা স্বীকার করে কিছু নির্মম সত্য বলতে হয়, তারা কি তাদের দায়িত্ব পালন করেছে? ছেলে আবদার করলো ‘মেহজাবিনকে চাই’। ওমনি দৌড়ে চলে গেলো মেহজাবিনের কাছে, তারা যেন এক সাথে থাকে এবং প্রেমটা ঠিকঠাক করে। কি আশ্চর্য ! এটা মোটেও কোনো বুদ্ধিদীপ্ত কাজ না। নিজের ছেলের প্রেমের আবদার ফেরি করে বেড়ানো..

এখন সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে আরেকটা খুনের চেষ্টা চলছে। এরা কাউকেই বাঁচাতে চায় না। আরেকটা মৃত্যু সংবাদ শোনার জন্য অপেক্ষা করছে সবাই। সবাই চাচ্ছে, মেহজাবিন যেনো লাবিবের খুনের দায় নিয়ে আত্মহত্যা করে। পারলে এরাই মেহজাবিনকে খুন করে দিত !

সবাই আবেগকেন্দ্রিক চিন্তা ভাবনা না করে মানবিক চিন্তা করুন। মেহজাবিনকে বাঁচতে দিন। কোনো অপমৃত্যু যেনো আর না ঘটে আমাদের সমাজে। কষ্ট নিয়ে হলেও মেহজাবিনরা বেঁচে থাকুক…

Comments

comments