দ্যা ভিট্রুভিয়ান ম্যান এর ইতিহাস

ভিট্রুভিয়ান ম্যান

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির নাম জানা নেই সমগ্র পৃথিবীতে খুব কম মানুষ পাওয়া যাবে। তার অনবদ্য চিত্রকর্ম সৃষ্টি মোনা লিসার রহস্যময়ী ছবিটি। এছাড়াও তার হাতে আছে রহস্যময় চিত্রকর্মের বহু আবিস্কার, দ্যা ভিট্রুভিয়ান ম্যান বা ভিক্রভিয়ান মানব তার আরেকটি অনবদ্য চিত্রকর্ম। চলুন আজকে এ সম্পর্কে জেনে নেই!

দ্যা ভিট্রুভিয়ান ম্যান

ভিক্রভিয়ান মানব, ইতালীয় ভাষায় এটি দাঁড়ায় Uomo Vitruviano আর ইংরেজি ভাষায় আসে Vitruvian Man ! এটি প্রখ্যাত ইতালীয় চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি’র আঁকা একটি অনবদ্য চিত্রকর্ম। ছবিটি আঁকা হয়েছিল ১৪৮৭ সালে। কাগজের উপর সাধারণ কলম দিয়ে আঁকা এই ছবিতে একই ব্যক্তিকে দুটি পৃথক বিন্যাসে দেখা যায়, একটি বিন্যাস একটি বৃত্তের মাঝে এবং অন্যটি একটি বর্গক্ষেত্রের মাঝে।

ধারণা করা যায়, ছবিটির সাথে সংযুক্ত পাওয়া যায় কিছু মন্তব্য যা লেখা ছিল বিখ্যাত স্থপতি মার্কুস ভিট্রুভিয়ুস-এর কাজের উপর ভিত্তি করে। ছবি এবং তার সাথে সংযুক্ত মন্তব্যগুলোকে অনেক সময় একসাথে Canon of Proportions বা মানুষের অনুপাত বলা হয়।

ভিক্রভিয়ান মানব
The Vitruvian Man

বর্তমানে এটি ইতালির ভেনিস শহরের আকাদেমিয়া নামক জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। সাধারণ কাগজ-কলমে আঁকা অন্য সব ছবির মত এটিও বিশেষ কোন সময়ে প্রদর্শন করা হয়, অধিকাংশ সময়ই গোপনে সংরক্ষিত থাকে।

চিত্রকর্মটির সংক্ষেপিত ইতিহাস

ভিট্রুভিয়ান ধারণাটির জন্ম ভিঞ্চির জন্মেরও ১৫০০ বছর পূর্বে। ১ম খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমান সম্রাজ্যে মার্কুস ভিত্রুভিয়ুস নামে একজন স্থপতি ছিলেন। তার বিখ্যাত স্থাপত্য বিষয়ক গ্রন্থ De Architectura . বইটি ১০টি পৃথক পৃথক ভাগে বিভক্ত ছিল, প্রতি ভাগে স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা এবং যন্ত্রকলা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশিত ছিল। সেই রোমান যুগ থেকে শুরু করে ইউরোপীয় রেনেসাঁ পর্যন্ত বইটির প্রভাব বিদ্যমান ছিল, আধুনিক স্থাপত্য শিল্পেও ক্ষেত্রে বিশেষে এর ব্যবহার দেখা যায়।

এই বইয়েরই তৃতীয় ভাগে দ্যা ভিট্রুভিয়ান ম্যান বা ভিক্রভিয়ান মানব বিষয়ক ধারণার সূত্রপাত ঘটে। এই অধ্যায়ের মূল বিষয় ছিল মন্দির নির্মাণ শিল্প।

এতে লেখা আছে –

Similarly, in the members of a temple there ought to be the greatest harmony in the symmetrical relations of the different parts to the general magnitude of the whole. Then again, in the human body the central point is naturally the navel. For if a man can be placed flat on his back, with his hands and feet extended, and a pair of compasses centered at his navel, the fingers and toes of his two hands and feet will touch the circumference of a circle described therefrom. And just as the human body yields a circular outline, so too a square figure may be found from it. For if we measure the distance from the soles of the feet to the top of the head, and then apply that measure to the outstretched arms, the breadth will be found to be the same as the height, as in the case of plane surfaces which are completely square.

লেখাটির হুবহু অনুবাদের চেষ্টা –

“অনুরূপভাবে, একটি মন্দিরের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন অংশের সমতুল্য সম্পর্কের সামগ্রিক পরিমাপের সর্বাধিক সাদৃশ্য থাকা উচিত।আবার, মানব দেহে কেন্দ্রীয় বিন্দু স্বাভাবিকভাবেই নাভি হয়। মানুষ তার পিঠের উপরে তার হাত ও পায়ের প্রসারিত প্রসারিত এবং তার নাভিতে কেন্দ্রীভূত কম্পাসগুলির একটি জোড়া তার দুই হাত ও পায়ের আঙ্গুল এবং পায়ের আঙ্গুলের বর্ণনায় বর্ণিত বৃত্তের পরিধি স্পর্শ করবে। মানুষের শরীরের একটি বৃত্তাকার রূপরেখা তৈরি করে, তাই খুব কাছ থেকে একটি বর্গক্ষেত্রের সংখ্যা পাওয়া যেতে পারে। যদি আমরা পায়ের পাতার নিচ থেকে মাথার উপরে দূরত্ব পরিমাপ করি, এবং তারপর প্রসারিত অস্ত্র পরিমাপ প্রয়োগ করি, তবে সমতল উপরিভাগ যা সম্পূর্ণ বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রে হিসাবে উচ্চতা হিসাবে একই হতে পাওয়া যায়।

  • তথ্যসূত্র‍ঃ The Vitruvian Man, Stanford University

[লেখনী সহায়তাঃ আরাফাত রূপক ও ফাতিমা তাসনিম সাদিয়া]

Comments

comments