হাতিরঝিল গিয়ে অভিনয় করুন ! সংসদ কোনো নাট্যমঞ্চ নয়

সংসদ কোনো নাট্যমঞ্চ নয়

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নানান কারণে আলোচিত। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের নমিনেশন বিক্রি শুরু হওয়ার পরই দেখা যায়, নায়ক-গায়ক থেকে শুরু করে ক্রিকেটার-ফুটবলার পর্যন্ত সবাই মনোনয়ন পেতে ভিড় জমায় ধানমন্ডিতে আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে।

প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকজন তারকা মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে নৌকা নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসে। নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রচারণায়ও দেখা যায় সিনেমা-নাটকের ছোটবড় প্রায় সব অভিনেতা-অভিনেত্রীদের।

বছরের পর বছর যারা বেকার হয়ে পড়ে আছে। যাদের হাতে কোনো সিনেমা নেই, নেই কোনো নাটক, তারাও নৌকার জন্য ভোট চেয়ে সারাদেশে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। এমনকি নিজেদের অভিনয় যদি ভালো লাগে, তার বিনিময়ে হলেও ভোট চেয়েছেন।

অবশ্য তারকাদের জন্য রাজনীতি নতুন কোনো বিষয় না। কিন্তু সুসময়ে ‘একদল বেকার’ যারা সিনেমা-নাটকে না করে ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ পেতে এভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, এমনটাই মনে করছেন এখন অনেকে।

আর এই মনে করাটা সত্য বলে মনে হচ্ছে, সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হওয়ার জন্য আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে সিনেমা-নাটকের তারকাদের ভীড় দেখে ! ইনারা এমন এমন সব মুখ, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এদের কমবেশ সবাইকেই দেখা গেছে বিএনপির সব অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার যোগ্যপুত্র তারেক জিয়ার আশেপাশে। অনেকে তো আবার হাওয়া ভবনের দরজায়ও পরে থাকত ! এরাই এখন আওয়ামীলীগের এমপি হতে ধানমন্ডি আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেলছে…

সম্প্রতি এব্যপারে মুখ খুলেছেন বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমেদ ও জিসাসের সভাপতি আবুল হাশেম রানা। তারা বলেছেন, এক সময় শিল্পীদের সমাহার ছিলো তাদের সংগঠনে। বেশিরভাগ তারকাই নিয়েছেন ‘জিয়া স্বর্ণ পদক’। এর বাইরেও জাসাস-জিসাসের কমিটিতেও ছিলেন অনেকে। চ্যানেল ওয়ানকে ঘিরে আরেক দল সম্পর্ক রাখতেন হাওয়া ভবনের সঙ্গে।

বিএনপি’র আমলের অনেক ছবি এখন প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান যারা আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ করছে, তাদের সবাইকেই দেখা গেছে “শহীদ জিয়া স্বর্ণ পদক” হাতে নিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে। সে আমলে ফেসবুক থাকলে অবশ্যই এই পদক হাতে তারা পাউট করে সেলফি পোস্টাতেন।

হঠাৎ করে রাতারাতি ক্ষমতার স্বাদ পেতে এরকম দলবদল দর্শকদের যেরকম পীড়া দিচ্ছে। তেমনি বিষয়টা রাজনীতির জন্যেও অনেক দুঃখজনক। সারাবছর দলের জন্যে আন্দোলন-সংগ্রাম করে, জনগনের পাশে থেকে জেল-জুলুম খেটে রাজনীতি করা রাজনীতিবীদরা হচ্ছেন বঞ্চিত। তাদের সাজানো বাগানে বসবাস করতে চাচ্ছে এমন কিছু ব্যক্তিগণ, জনগনের সাথে যাদের কোনো সম্পর্কই নেই, এমনকি তারা নেই কোনো সংগ্রামে। সারাবছর তারা এসি রুমে বসে এখন এসেছে ক্ষমতার আরো কাছাকাছি থাকতে !

এটা আমাদের রাজনীতির জন্যে খারাপ সংবাদ। রাজনীতিটা রাজনীতিবিদদের থেকে ছিনতাই হয়ে চলে যাচ্ছে বেকার তারকাদের কাছে। যাদের নেই কোনো আদর্শ। ক্ষমতার পালাবদলে যারা পাড়ি দিয়েছে অন্য ঘরে। এমনকি ভবিষ্যতেও হয়ত দিবে !

তাই ক্ষমতাসীন দলের উচিৎ পবিত্র সংসদকে নাট্যমঞ্চ না বানিয়ে দলের জন্যে যারা সংগ্রাম করেছেন, ত্যাগ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা।

আর এইসব সিনেমা নাটকের তথাকথিত তারকাদের উচিৎ তাদের নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকমতন করা। রাজনীতি নিয়ে তাদের না ভাবলেও চলবে। তারা অভিনয় করুক। আমরা তাদের বিউটিফুল বিউটিফুল নাটক/সিনেমা দেখতে চাই। ফুলবাগানে নাচের দৃশ্য দেখে ভ‍ালোবাসার শিহরণে শিহরিত হতে চাই। সংসদকে নাট্যমঞ্চ ভাবার মত দুঃসাহসটা যেনো কেউ না দেখায়। বহু রক্তক্ষরণের আঘাত নিয়ে বেড়ে উঠে আজকের এই অবস্থানে আসা প্রিয় আ‍ওয়ামীলীগ দলটাতে একটি ভাইরাসও না ঢুকুক। ‌লেখক নয়, একজন সমর্থক হিসেবে এটাই আম‍ার চাওয়া…

Related content :

SHARE