মাশরাফির জোরাজুরিতে দলে ফিরলেন নিষিদ্ধ সাব্বির ! ব্যাপারটা কি সুন্দর দেখালো ?

নিষিদ্ধ সাব্বির

আসুন প্রথমে সাব্বিরের একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখে নিই। ৫৪ ম্যাচ খেলে রান করেছে ১০৫৪। গড় মাত্র ২৪.৫১। সর্বোচ্চ রান ৬৫। সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরি করেছে ২০১৭ সালের মে মাসে। এবং চলতি বিপিএলে ওপেনিং ব্যাট করে একটি ম্যাচে ৮৫ রান ছাড়া প্রত্যেক ম্যাচে বাজে এবং দৃষ্টিকটুভাবে আউট হয়েছে৷

এত কথা বলার কারণ, আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজে অধিনায়ক মাশরাফির জোরাজুরিতে সাব্বির রহমানকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সবাইকে আরেকটি ব্য‍াপার মনে করিয়ে দিই, সাব্বির রহমান বর্তমানে জাতীয় দল থেকে নিষিদ্ধ আছেন। নিষিদ্ধের কারণ, দর্শকদের পিটানো, নারী কেলেঙ্কারির, ড্রেসিং রুমে সতীর্থের গায়ে হাত তোলা। আর এসব অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় বিসিবি সাব্বিরকে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই ৬ মাসের কেবল ৪ মাস হইছে। বাকি আছে আরো ২ মাস৷ কিন্তু এই সাজা পুরণ হওয়ার আগেই মাশরাফির চাওয়ায় সাব্বিরের শাস্তি কমিয়ে দলে ডাকা হয়েছে৷

সাব্বিরের শাস্তি কমিয়ে দলে ডাকার কি অধিনায়কের কোনো কারণ আছে? সাব্বিরকে কোন পারফর্মেন্সের কারনে দলে ডাকা হলো? একটি ম্যাচে ৮৫ রানের জন্য। সাব্বিরকে যেসব অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছিলো, সেগুলো থেকে কি সাব্বির নিভৃত হয়েছে? এসব কোনো প্রশ্নের জবাব না নিয়ে জোর করে সাব্বিরকে দলে ঢোকানো স্বেচ্ছাচারীতা ছাড়া কিছুই না।

সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট দলের অপরিহার্য ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডে ও কে এল রাহুল কে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। তাদের অপরাধ কি? দর্শক পিটানো? সতীর্থর গায়ে হাত তোলা? ফেইসবুকে দর্শককে হুমকি দেওয়া? না এসব কিছুই না। তাদের অপরাধ ভারতীয় একট টিভি অনুষ্ঠানে নারীদের নিয়ে কিছু আপত্তিকর কথা। আর সেখানে তো সাব্বিরের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগই আছে। এটাতো প্রমাণিত ব্যপার-ই।

ক্যাপ্টেন একজন প্লেয়ারকে দলে চাইতেই পারেন। কারন দিনশেষে মাঠে ১১ জনকে ক্যাপ্টেনই পরিচালনা করতে হয়৷ কিন্তু সেটা কি অযৌক্তিক ভাবে নিতে পারেন? একজন ক্যাপ্টেনের নৈতিকতার ব্যপারও তো আছে। যদি অপরাধীকে শাস্তির বদলে পুরষ্কৃত করা হয়, তাইলে বাকিদের কাছে কি বার্তা যাবে? পারফর্মেন্স কোনো ব্যপার না, ক্যাপ্টেনের সু-নজরে থাকাটাই আসল। আর যারা পারফর্মেন্স করে দলে ঢোকার আশায় ছিলো, তাদের অবস্থাটায় বা কি হয়? আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়৷ একটা দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে। এটা এক দুইদিনে হয়তো প্রকাশিত হয়না। কিন্তু এর প্রভাব আস্তে আস্তে দলের মোরালিটির জায়গায় ক্ষত সৃষ্টি করে৷ আর যেটা থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না।

SHARE