‘ফাগুন হাওয়ায়’ এক ঝলক আবুল হায়াত

ফাগুন হাওয়ায়

কোনো সিনেমায় আবুল হায়াতের নাম দেখলেই আমি নড়েচড়ে বসি। সিনেমার গল্প যাই হোক না কেনো, নায়ক কে, নায়িকা কে, পরিচালকই বা কে, এসব আমার নজরে আসে না। আমি শুধু দেখি আবুল হায়াত কে। কারণ আমি জানি, একটা ভালো সিনেমার জন্য আবুল হায়াত নামটাই যথেষ্ট !

আমার শৈশব থেকে বড় হয়ে ওঠা, এমনকি আজকের দিন পর্যন্তও আমি আবুল হায়াতে বুদ হয়ে আছি। আমার কাছে আবুল হায়াত বিরাট এক বট বৃক্ষ। আমি দূরন্ত কিশোর। যে তপ্ত দুপুরে বট গাছের বিভিন্ন ডালপালা ধরে ঝুলে ঝুলে খেলা করে। আমার ভাবনার সুখনিবাসে সেই বটগাছ হচ্ছে আবুল হায়াত…

আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, পৃথিবীর কোন হাসিটা তুমি মুগ্ধতা নিয়ে দেখতে চাও? সাতপাঁচ না ভেবেই আমি বলে দেবো, আবুল হায়াতের হাসি। আবুল হায়াতের হাসিতে আছে সারল্য আভিজাত্য আর পবিত্রতা। বৃষ্টির জল বুনো হাঁসের শরীরে যেভাবে চুইয়ে চুইয়ে পরে, আবুল হায়াতও হাসলে সেভাবে ঠোঁটের দুই পাশ দিয়ে ভালোবাসা চুইয়ে চুইয়ে পরে।

ছোটবেলায় একটা সিনেমায় দেখে ছিলাম, ডিপজল আবুল হায়াতকে গালিগালাজ করছে, মারছে, মাথার ত্বকে হাত দেয়া সহ আরো নানান ধরনের টর্চার করছে। অন্য আরেক ছবিতে দেখেছি, সাদেক বাচ্চু আবুল হায়াতকে পিটিয়ে ধাক্কা দিয়ে উঁচু সড়ক থেকে ফসলী জমিতে ফেলে দিয়েছে। আবুল হায়াতের দেহ যখন গড়াতে গড়াতে ধানক্ষেতের উপর গিয়ে থামে, মনে হচ্ছিলো ধানক্ষেতের উপর শুয়ে আছে এক টুকরো বাংলাদেশ ! সেই দৃশ্যে আবুল হায়াতের দুঃখ মেশানো বেদনায় জর্জরিত কান্নামাখা মুখ এখনো আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে। পৃথিবীর কোথাও এখন কোনো অত্যাচারিত দুঃখী মানুষ দেখলেই আমি সেখানে আবুল হায়াতের কান্নামাখা মুখটাকে দেখি।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, আমি এত কথা কেনো বলছি? নির্দিষ্ট একটি কারণেই বলছি। গত কয়েকদিন আগেই “ফাগুন হাওয়ায়” সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেই এক ঝলক দেখেছি আবুল হায়াতের মুখ !

১৫ই ফেব্রুয়ারি মুক্তির অপেক্ষায় ফাগুন হাওয়ায়

ট্রেইলার দেখে যেটা বুঝলাম, পুরো সিনেমা জুড়েই রয়েছে আবুল হায়াত। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা আবুল হায়াতের দৃশ্য যখন আসলো, তখনই সিনেমাটার সার্থকতা শুরু। আবুল হায়াতকে দেখানো হলেই যেনো সিনেমার গল্পটা ডালপালা ছড়াতে শুরু করে।

ট্রেইলারের শুরুতে সিয়ামকে বলতে দেখা যায়, ‘বনের পাখি খাঁচায় রেখে লাভ কি?’ তবে সিনেমার পূর্বপ্রকাশিত এক পোস্টারে দেখা যাচ্ছিলো, আবুল হায়াত এক হাতে ব্রিফকেস নিয়ে আরেক হাতে তিশাকে ধরে কোথায় যেনো নিয়ে যাচ্ছে। সেই দৃশ্যে তিশার হাতে পাখির খাঁচা দেখা যাচ্ছিলো। তিশা কি তাহলে সিয়ামের কথা রাখেনি? আবুল হায়াতের কথা মতই পাখি খাঁচাবন্দি করে রেখেছিলো? নাকি এই পাখি আবুল হায়াত মেরে ফেলেছে? এটা একটা রহস্য…

ফাগুন হাওয়ায় আবুল হায়াত
ফাগুন হাওয়ায় সিনেমার দৃশ্যে আবুল হায়াত

পরের দৃশ্যেই আবুল হায়াতের আগমণ। এ দৃশ্যে আবুল হায়াতকে রাস্তার উপর গাড়ি পার্ক করে রাখতে দেখা যায়, যা কিনা ট্রাফিক আইন লঙ্গন হিসেবে বিবেচিত। আমরা জানি সমাজের ক্ষমতাবান ও ধনকুবের ব্যক্তিরাই সাধারণত আইনকানুন ভাঙেন। তাহলে কি এ সিনেমায় আবুল হায়াত একজন ধনকুবের ? গরুর গাড়িতে বসে মুখ গোমড়া করে থাকার দৃশ্যটা দেখে কিন্তু তাই মনে হয় !

ট্রেইলারে আবুল হায়াতকে মাত্র ৪ সেকেন্ড দেখানো হয়েছে। আমি মনে করি, এই ৪ সেকেন্ডই সিনেমার সফলতা বয়ে আনবে। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, ‘সিয়াম কি দোষ করলো? সে কি নায়ক নয়?’

সিয়াম কোনো দোষ করেনি। দোষ তিশারও নেই। বিষয়টা হচ্ছে, পাবলিক ডিমান্ড। আবুল হায়াতকে নিয়ে আমাদের ইয়াং জেনারেশনের মাঝে যেই ক্রেজ, তাকে নিয়ে ভক্তদের যে চাহিদা, তা পূরণ করা খুবই কঠিন। আমি মনে করি, আবুল হায়াতকে নিয়ে পুরো দুইঘন্টার সিনেমা বানিয়েও তা পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই আমার মতে, ফাগুন হাওয়ায় সিনেমাটি দেখতে মানুষ হলে যাবে ঠিকই। একের পর এক দৃশ্য বদলাবে, পর্দায় সিয়াম আসবে, তিশা আসবে। কিন্তু দর্শকদের মন পরে থাকবে আবুল হায়াতের কাছে !

এবং সিনেমাটি সফলও হবে !

কেনো সফল হবে জানেন? সফল হবে, কারণ চৌকষ পরিচালক জানেন, ট্রেইলারে আবুল হায়াতকে এক ঝলকের বেশি দেখানো যাবেনা। এই অদেখা সুখটাকে নিজের করে নিতেই দর্শকরা সিনেমাহলে যাবে। সেখান থেকেই বেরিয়ে আসবে ফাগুন হাওয়ার সফলতা।

… আর এই সিনেমার পরিচালক তৌকির আহমেদ যে আবুল হায়াত নামক মানচিত্রেরই একটা অংশ !

শুভকামনা রইলো ‘ফাগুন হাওয়ায়’ (Fagun Haway – In spring Breeze) সিনেমাটির জন্য ♥️

আবুল হায়াত সম্পর্কিত অন্যান্য লেখাগুলো :

(বিঃদ্রঃ ছারপোকা ম্যাগাজিন ইতিপূর্বেই ঘোষণা দিয়েছে আবুল হায়াত অভিনিত সকল সিনেমা, নাটক ও টেলিফিল্ম বিনামূল্যে প্রমোশন করার। তারই অংশ হিসেবে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে ছারপোকা ম্যাগাজিনের প্রতিটি লেখার শুরুতে ফাগুন হাওয়ায় সিনেমার বিজ্ঞ‍াপনী ব্যানার দেখতে পারেন)

SHARE