নরেন্দ্র মোদী vs ইমরান খান – কে এগিয়ে?

নরেন্দ্র মোদী vs ইমরান খান

গত কিছুদিন যাবৎ বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভারত-পাকিস্থান। কে বেশি শক্তিশালী? কাদের অস্ত্রে ধার বেশি? কোন দেশের সেনাবাহিনীই বা কার চেয়ে কতটা এগিয়ে। এসব নিয়ে আলোচনা আর বিশ্লেষন হচ্ছে সর্বত্র…

কিন্তু এই দুই দেশ যারা চালান, সেই নরেন্দ্র মোদী আর ইমরান খান, তারাই বা কেমন? কার কি যোগ্যতা? এই দুইজনের কে কার থেকে এগিয়ে? ইমরান না মোদী? এসব ব্যাপারেও আলোচনার কমতি নেই। যে যার মত মতামত তুলে ধরে যাচ্ছে। আমরাও মতামত তুলে ধরবো, তবে সেটা নিজস্ব মতামত নয়, সত্যিকার তথ্য উপাত্ত সংবলিত মতামত…

নরেন্দ্র মোদী vs ইমরান খান

পাকিস্থানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পুরো নাম ইমরান আহমেদ খান নিয়াজি। যে বছর ভাষার জন্য পূর্ব বাংলা রক্ত ঝরালো, ঠিক সে বছর লাহোরের জামান পার্কের এক সরকারী প্রকৌশলীর ঘরে জন্ম নেন ইমরান খান। জন্মের তারিখ ১৯৫২ সালের ৫ অক্টোবর।

এদিকে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইমরানের জন্মের ঠিক দু’বছর আগে ১৯৫০ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর বর্তমান গুজরাট রাজ্যের মহেসানা জেলার বড়নগর নামক স্থানে ঘাঞ্চী তেলী সম্প্রদায়ের এক নিম্নবর্গের হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

ছোটবেলায় ইমরান খানের পড়াশোনার প্রতি তেমন মনযোগ না থাকলেও পরিবারের চাপে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া লাগে। তবে পড়াশোনার চেয়েও ইমরান ক্রিকেট খেলতে বেশি ভালোবাসতো। এজন্য মাত্র ১৬ বছর বয়সে লাহোরের হয়ে প্রথম ফার্স্টক্লাস ম্যাচ খেলার সুযোগ লাভ করেন। এবং ব্যাটে-বলে আলো ছড়াতে শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালে পাকিস্থানের জাতীয় দলে ডাক পেয়ে যান ইমরান খান, তখনও তার পড়াশোনা শেষ হয়নি। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান ইমরান। ১৯৭২ সালে কেবেল কলেজ, অক্সফোর্ড থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ইমরান অনার্স গ্র্যাজুয়েট শেষ করেন ১৯৭৫ সালের দিকে। ইংল্যান্ডে থাকার সময়েই তিনি কাউন্টি ক্রিকেটে সবার নজর কাড়েন।

এদিকে নরেন্দ্র মোদী কৈশোর থেকেই বড়নগর রেলস্টেশনে চা বিক্রি করতেন। প্রথম তার বাবাকে চা বিক্রিতে সহায়তা করলেও পরে তার ভাইয়ের সাথে মিলে চা বিক্রি করেন। চা বিক্রির পাশাপাশি বড়নগর এলাকার বিদ্যালয় থেকে খুব সাধারণ ছাত্র হিসাবে পড়াশোনা শেষ করেন। নরেন্দ্র মোদীর রাজনীতির প্রতি ছিলো প্রবল আগ্রহ। মাত্র আটবছর বয়সেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসংঘের স্থানীয় বালক শাখায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।

২০১৪ সালে প্রকাশিত কিশোর মাকওয়ানা রচিত “কমন ম্যান নরেন্দ্র মোদী” গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, সতেরো বছর বয়সে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি রাজকোট শহরে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন ও তারপর বেলুড় মঠ যাত্রা করেন। এরপর তিনি আলমোড়া শহরে স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত আশ্রমে যোগ দেন। দুই বছর পরে তিনি বাড়ি ফিরে এসে আমেদাবাদ শহরে নিজের কাকার চায়ের দোকানে যোগ দেন। এই সময় তিনি পুনরায় লক্ষ্মণরাও ইনামদারের সংস্পর্শে আসেন। এরপর তিনি গুজরাট রাজ্য মার্গ বাহন ব্যবহার নিগমের ক্যান্টিনের কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন, যত দিন না তিনি ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একজন পূর্ণসময়ের প্রচারক হিসেবে যোগ দেন। এই সময় তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরশিক্ষার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক এবং গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। (তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া)

ইমরান খান পাকিস্থানীদের নায়ক হন ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয় করার পর। টালমাটাল দুর্বল দল নিয়ে নিজের ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজ দেশকে বিশ্বকাপ উপহার দেন।

এদিকে নানান চড়াইউৎড়াই পার হয়ে নরেন্দ্র মোদী ২০০১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত একটানা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পালন করেন। তার প্রথম মেয়াদকালে গুজরাটে ভয়ংকর হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়। ২০০২ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি হিন্দু তীর্থ যাত্রীদের একটা ট্রেনে আগুন ধরে যায়। আর এতে মারা যায় ৬০ জন। হিন্দুরা এই অগ্নীকান্ডে মুসলমানদের দোষী মনে করে মুসলমানদের উপর আক্রমণ শুরু করে। আর শুরু হয়ে যায় ভয়ংকর দাঙ্গা। এতেই মারা পড়েন ২০০০ এর উপর মুসলিম। দাঙ্গা ঠেকাতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কার্ফু জারি করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো, সাথে বিরোধীদল এবং সংবাদপত্রের‍া অভিযোগ তোলে, ভোটের রাজনীতির জন্য মোদী পরিকল্পিত দাঙ্গা সৃষ্টি করেছে। যার জের ধরে আমেরিকা ২২ বছর মোদীর আমেরিকা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ইমরান খান বিশ্বকাপ জেতার ঠিক ৪ বছর পর ১৯৯৬ সালে তেহরিক-ই-ইনসাফ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৯৭ সালে প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ইমরান। যে দুটি কেন্দ্রে নির্বাচন করেন, সেই দুই কেন্দ্রেই তিনি পরাজিত হন। তারপর তরুণদের নিয়ে ব্যাপক প্রচার শুরু করেন ইমরান। ২০০২ সালে এই প্রথম কোনো নির্বাচনে ইমরান জয় লাভ করেন। ২০১৩ সালে পাকিস্তানের ১০তম নির্বাচনে তার দল দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আসন জেতে। আর ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই পাকিস্তানের ১১তম জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তার দল আসন সংখ্যার বিচারে সর্ববৃহৎ দলে পরিণত হয়। তিনি ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

এদিকে ২০১২ সাল পর্যন্ত গুজরাট কেন্দ্রিক রাজনীতি করে গেছেন নরেন্দ্র মোদী। পরে ২০১৩ সালে তাকে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয় ও নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে ২৬শে মে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেন।

আমাদের কাছে উত্তর না খুঁজে এবার আপনিই বলুন, কে এগিয়ে? নরেন্দ্র মোদী নাকি ইমরান খান ?

SHARE