fbpx

প্রাচীনকালের যত অদ্ভুত চিকিৎসা – শেষ পর্ব

প্রাচীনকালে কিছু অদ্ভুত চিকিৎসা ছিলো, যা একরকম প্রথার মত তখনকার সমাজে কাজ করত। বর্তমানে এসব চিকিৎসা খুব স্বাভাবিকভাবে যাচ্ছেতাই বলেই বিবেচিত হবে। প্রাচীনকালের এসব অদ্ভুত চিকিৎসা প্রথাগুলো নিয়ে ছারপোকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন (প্রাচীনকালের যত অদ্ভুত চিকিৎসা) এর শেষ অংশ পড়ুন আজ…

চোখের ভেতরে দাঁত বসিয়ে দেওয়া

অন্ধত্বজনিত চিকিৎসার কাজে প্রাচীনকালে চোখের ভেতরে দাঁতের একটি অংশ বসিয়ে দেওয়া হতো এবং এই পদ্ধতি আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও প্রচলিত আছে। প্রথমে রোগীর একটি দাঁত তুলে নিয়ে তাতে একটি লেন্স ড্রিল করে বসানো হয়। তার আগে দাঁতটি তার গালের মধ্যে সাময়িক একটি সময়ের জন্য বসানো হয় যাতে দাঁতটি তার নিজস্ব রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করে নিতে পারে। তারপর সেটি লেন্সের সঙ্গে লাগিয়ে চোখে বসিয়ে দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক শ্যানন ওয়েবার এবং গ্রেগ মোলোনি এই ধরনের জটিল সার্জারি করে থাকেন।

মৃত ইঁদুরের মলম

প্রাচীন মিশরীয়রা একসময় বিভিন্ন রোগের সকল সম্ভাব্য নিরাময় খোঁজার চেষ্টা করেছিলো। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তারা মৃত ইঁদুর দিয়ে এক ধরনের মলম বানাতে শুরু করে, যা কাশি থেকে দাঁতব্যথা সহ এবং আরো অনেক রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হত। ব্রিটেনে ইঁদুর ব্যবহৃত হতো আঁচিল চিকিৎসার কাজে। ইঁদুর অর্ধেক করে কেটে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে দেওয়া হতো নিরাময়ের উদ্দেশ্যে। পরবর্তীতে এই পদ্ধতি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

লার্ভা পদ্ধতি‍

আমেরিকান গৃহযুদ্ধের আগে অবধি সংক্রমিত ক্ষত নিরাময়ের কাজে লার্ভার ব্যবহার বহুল প্রচলিত ছিল, কেননা লার্ভাগুলো মরা টিস্যুগুলো খেয়ে ফেলতো এবং সুস্থ টিস্যুগুলো সুরক্ষিত থাকতো। পদ্ধতিটি এতোটাই কার্যকরী ছিল যে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এখনো এই পদ্ধতি প্রচলিত আছে। যখন খুব শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকও কাজ করে না তখন এই ছোট্ট মাছির বাচ্চাগুলো মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

তোতলামি সারাতে হেমিগ্লোসেকটমি

হেমিগ্লোসেকটমি এমন এক পদ্ধতি যা প্রাচীনকালে তোতলামি সারানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। রোগীর জিহ্বার কিছু অংশ কেটে ফেলে তোতলামি নিরাময় করা হতো এবং এই পদ্ধতিতে কোনোরকম অচেতন করে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে প্রুশিয়ান সার্জন জে.এফ ডিফেনবাখ ছিলেন এই পদ্ধতির অন্যতম অনুসারী এবং তিনি বিশ্বাস করতেন যে এই পদ্ধতিতে সার্জারির ফলে রোগী স্বাভাবিকভাবে কথা বলার ক্ষমতা লাভ করে।

পেঁয়াজ দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট

প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় পেঁয়াজ দিয়ে গর্ভধারণ পরীক্ষা করার রীতি প্রচলিত ছিল। কোনো নারী গর্ভবতী কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য তার যোনিতে পেঁয়াজ ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। পরদিন সকালে যদি তার মুখ দিয়ে পেঁয়াজের গন্ধ পাওয়া যেত তাহলে মনে করা হতো যে ওই নারী গর্ভবতী।

ঘুমপাড়ানি সিরাপ

উনবিংশ শতাব্দীতে কোডিন, আফিম এবং হেরোইনের সংমিশ্রণে এক প্রকার সিরাপ তৈরি করা হতো যা শিশুদের ঘুমপাড়ানি ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হতো ব্যাপকভাবে। এই সিরাপটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তখন ব্যাপকহারে বিখ্যাত করে তোলা হয়। ১৮০০ সালের মাঝের দিকে এটি বাজারে বেশ চাহিদা তৈরি করে নেয়। ১৯৩০ সাল অবধি সিরাপটি বাজারে তার চাহিদা ধরে রাখে যদিও পরবর্তীতে এটির সত্যতা সবাই জেনে যায়।

পারদের পানীয়

ইদানিং আমরা জানি পারদ একটি বিষাক্ত ধাতু যা দৃষ্টিহীনতা, স্নায়ুক্ষয়, শ্রবণশক্তিহীনতা, পেশী দুর্বলতা ইত্যাদি সমস্যা তৈরি করে থাকে। পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা পারদের ক্ষতিকর দিকের কথা প্রচার করে আসছে অনেক আগে থেকেই। কিন্ত প্রাচীন গ্রিক, ইরানি এবং চীনারা বিশ্বাস করতো যে, পারদের পানীয় পান বা পারদ ত্বকে লাগানো জীবনের সময়কাল বৃদ্ধি করে থাকে এবং এটি সিফিলিসের মতো রোগ প্রতিরোধ করে। কিন শিন হুয়াং নামে একজন চীনা রাজা চিরকাল বেঁচে থাকার জন্য অধিকমাত্রায় পারদ গ্রহণের ফলে মারা যান।