দুই টিকেটে এক সিনেমা (পর্ব-১)

কপিরাইট বাংলা সিনেমা

কোনো পণ্য বা বস্তু চুরি করার চেয়েও জঘন্য অপরাধ হচ্ছে কারো শিল্প বা মেধা চুরি করা। এজন্যই সারা বিশ্বে “কপিরাইট” নামে একটি প্রপঞ্চ আছে। কপিরাইট (Copyright) হচ্ছে কোনো কিছু নকল করার রাইট বা অধিকার। এই বিশ্বায়নের যুগে সারা দুনিয়া যেনো আমাদের হাতের নাগালে। নাইজেরিয়ার রাজধানীর নাম জানিনা, তবে ইচ্ছে করলেই নিমিষেই নাইজেরিয়ান সিনেমা দেখে ফেলতে পারছি।

প্রতিটা দর্শক হৃদয়েই একটি শিল্পীসত্তা আছে, প্রতিটি দর্শকের হৃদয়েই একজন নির্মাতা ঘুমিয়ে আছে। পার্থক্য এইটুকুই সবাই পেশাদার হতে পারে না বা হয় না !

একটি ভাল মানের বিদেশি সিনেমা দেখলে একজন নির্মাতার স্বাদ জাগতেই পারে যে, আমি এই থিম নিয়ে আমার দেশে এমন একটি সিনেমা বানাবো। এটা দোষের কিছু নয়। বরং মূল সিনেমার নির্মাতাকে সম্মান প্রদর্শনের শামিল। তবে সম্মানটা তখনই দেখানো হবে, যখন আপনি সেই নির্মাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে সিনেমাটি বানানোর আইনগত অনুমতি বা কপিরাইট নেবেন। যদি তা না করেই সিনেমা নির্মাণ করেন, তাহলে আপনি কপিরাইট আইন লঙ্গন করলেন। যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ! এক্ষেত্রে আপনার নির্মিত সিনেমাটিকে ভদ্র ভাষায় আন-অফিসিয়াল রিমেক বললেও; খাস বাংলায় বলা হবে চুরি।

আমার গত কয়েকটি আর্টিকেলে আমি বাংলাদেশে সিনেমা নির্মাণের সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে নির্মাতাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছিলাম।

কিন্তু আজ এমন একটা বিষয় নিয়ে কথা বলবো, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের জন্য লজ্জার ব্যাপার। সেটা হচ্ছে, লুটপাটের মত বিদেশি সিনেমা নকল। বলতে পারেন, “বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা নতুন কিছু ন?” ! হ্যাঁ, সিনেমা নকল করা আমাদের জন্য “দুধ-ভাত”। তবে একই সিনেমা একাধিকবার নকল করে দর্শকদের প্রতারিত করার ঘটনা এদেশে অনেকবার ঘটেছে এবং ঘটছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো “সহৃদয়বান নির্মাতাগোষ্ঠী” এমন অপকর্ম থেকে বিরত থাকেন এবং দর্শকরা যেন সচেতন থাকেন, সেটা নিশ্চিত করাই আমার এ লেখার উদ্দেশ্য।

তাহলে আসুন জেনে নেই সেই সকল বিদেশি সিনেমাগুলো সম্পর্কে, যেগুলো আমাদের দেশে একাধিকবার নকল করে দর্শকদেরকে দুই বা তিন টিকেটে এক সিনেমা দেখতে বাধ্য করা হয়েছে !

১. Gopurangal Saivathillai (1982) : বাবার চাপে পরে এক গ্রাম্য মূর্খ কুৎসিত মেয়েকে বিয়ে করতে বাধ্য হয় এক শিক্ষিত সুদর্শন যুবক। কিন্তু শহরে গিয়ে আরেক সুন্দরী তরুণীর প্রেমে পড়ে যায় সে। এমনই গল্প নিয়ে পরিচালক মনিবান্নান ১৯৮২ সালে নির্মাণ করেন সোশ্যাল ড্রামা মুভি Gopurangal Saivathillai. সুহাসিনী মনিরত্নম, মোহন ও রাঁধা অভিনীত এই তামিল ছবিটি ব্যবসায়িক সফলতা ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। এই গল্পটিকে কিছুটা মডিফাইড করে শহীদুল ইসলাম খোকন ১৯৯৯ সালে নির্মাণ করেন “ম্যাডাম ফুলি”। যেখানে সিমলা সুহাসিনী’র, আলেকজান্ডার বো মোহনের এবং মিশেলা রাঁধা’র করা চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন ছাড়াও ব্লকবাস্টার হিট হয়। এই একই থিম নিয়ে উত্তম আকাশ সাহেব ২০১০ সালে আবার নির্মাণ করেন “যেমন জামাই তেমন বউ”। যেখানে চাঁদনি সিমলা’র এবং ইমন আলেকজান্ডারের করা চরিত্রে অভিনয় করেন। দর্শকদের প্রতারিত করার শাস্তিস্বরূপ ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।

২. Swarg (1990) : নিজের আপনজনদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে শেষ পর্যন্ত গৃহপরিচারকের বদান্যতায় পুনরায় নিজের কষ্টার্জিত সহায় সম্পত্তি ফিরে পাওয়া এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির গল্প নিয়ে ডেভিড ধাওয়ান ১৯৯০ সালে নির্মাণ করেন ফ্যামিলি ড্রামা মুভি Swarg. রাজেশ খান্না, গোবিন্দা ও জুহি চাওলা অভিনীত এই হিন্দি ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। উল্লেখ্য যে, এর আগে-পরে প্রায় একই থিম নিয়ে দেশে-বিদেশে একাধিক সিনেমা নির্মিত হয়েছে। যাহোক, তার পরে বছর ১৯৯১ সালে প্রায় একই থিম নিয়ে মাস্টারমেকার এ.জে. মিন্টু নির্মাণ করেন “পিতা মাতা সন্তান”। আলমগির, শাবানা, আসাদ ও ইমরান অভিনীত এই ছবিটি ব্যাপক ব্যবসাসফলতা ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। ১৯৯৬ সালে পরিচালক আজিজ আহমেদ বাবুল একই গল্পে নির্মাণ করেন “স্নেহের প্রতিদান”। ইলিয়াস কাঞ্চন, দিতি ও রাজীব অভিনীত এই ছবিটিও সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়। অবশেষে ২০১১ সালে শাহিন-সুমন নির্মাণ করেন “কে আপন কে পর”। অমিত হাসান, অপু বিশ্বাস ও আলমগির অভিনীত এই ছবিটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়।

৩. Sleeping with the Enemy (1991) : নিষ্ঠুর স্বামীর হাত থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে যাওয়া এক গৃহবধূর গল্প নিয়ে জোসেফ রুবেন ১৯৯১ সালে নির্মাণ করেন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার মুভি Sleeping with the Enemy. জুলিয়া রবার্টস, প্যাট্রিক বার্গিন ও কেভিন আন্ডারসন অভিনীত এই আমেরিকান ছবিটি ব্যাপক সফলতা অর্জন করে এবং এ পর্যন্ত সারাবিশ্বে ১৩ বার রিমেক করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালে বাদল খন্দকার নির্মাণ করেন “সাগরিকা”। ঋতুপর্ণা, হেলাল খান ও আমিন খান অভিনীত এই ছবিটি মোটামুটি সফল হয়। এই ছবিটি মুক্তির ঠিক ৩৬ দিনের মাথায় (১৯৯৮ সালেই) মুক্তি পায় একই গল্পে নির্মিত মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত “রাঙা বউ”। তৎকালীন সময়ের চেয়ে বেশি সাহসী এই সিনেমাটিতেও হেলাল খানের চরিত্রে হুমায়ুন ফরীদি ছাড়াও ঋতুপর্ণা ও আমিন খান একই চরিত্রে ছিলেন। এই ছবিটিও ভাল ব্যবসা করে।

৪. Dilwale (1994) : ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রেমী যুগলের পুনর্মিলন ঘটিয়ে তাদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে তৎপর এক পুলিশ অফিসারের গল্প নিয়ে হ্যারি বাওয়েজা ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করেন রোমান্টিক আ্যাকশন মুভি Dilwale. অজয় দেবগন, রাভিনা ট্যান্ডন ও সুনীল শেট্টি অভিনীত এই হিন্দি ছবিটি সেসময় ব্লকবাস্টার হিট হয়। অতঃপর মোস্তাফিজুর রহমান বাবু এই গল্পটাকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করেন “এই মন তোমাকে দিলাম“। শাকিল খান, পপি ও ববিতা (নারী পুলিশ অফিসার চরিত্রে) অভিনীত ছবি মোটামুটি ব্যবসাসফল হয়। এরপর ২০০৩ সালে এফ আই মানিক সিনেমাটি বাংলাদেশে “স্বপ্নের বাসর” নামে নির্মাণ করেন। রিয়াজ, শাবনূর ও শাকিব খান অভিনীত ছবিটি ব্যাপক ব্যবসাসফল হয় এবং এর “কিছু কিছু মানুষের জীবনে” গানটি অমরত্ব লাভ করে। প্রথম দুটি রিমেকের সাফল্যে “ঈর্শ্বান্বিত” হয়ে রকিবুল আলম রকিব ২০১৪ সালে ছবিটি আবার “প্রেম করবো তোমার সাথে” নামে নির্মাণ করেন। জায়েদ খান, মম ও আনিসুর রহমান মিলন অভিনীত ছবিটির সাথে দর্শকরাও একটুও প্রেম দেখাননি।

৫. Road (2002) : পালিয়ে বিয়ে করতে যাওয়া প্রেমীযুগল পথিমধ্যে তাদের গাড়িতে লিফট দেয় এক মানসিক বিকারগ্রস্ত সিরিয়াল কিলারকে; ঘটতে থাকে একের পর এক অঘটন। এমনই গল্প নিয়ে রজত মুখার্জী ২০০২ সালে নির্মাণ করেন রোড থ্রিলার মুভি Road. বিবেক ওবেরয়, অন্তরা মালী ও মনোজ বাজপাঈ অভিনীত এই হিন্দি ছবিটি মোটামুটি সফলতা অর্জন করে। ২০০৪ সালে পরিচালক ফিরোজ খান প্রিন্স একই গল্পে “প্রেমিকা ছিনতাই” নামে একটি সিনেমা নির্মাণ করেন। শাহিন আলম, শানু ও রুবেল অভিনীত ছবিটি অশ্লীলতার দায়ে দুষ্ট হলেও মোটামুটি ব্যবসাসফল হয়। ২০১৭ সালে দেবাশীষ বিশ্বাস আবারও একই গল্পে নির্মাণ করেন “চল পালাই”। শিপন মিত্র, তমা মির্জা ও শাহরিয়াজ অভিনীত ছবিটি দেখতে সিনেমা হলে যাওয়া দর্শকরাও ছবি শেষ হওয়ার আগে হল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

৬. Okkadu (2003) : এক ক্ষমতাশালী দুর্বৃত্তের হাত থেকে এক তরুণীকে মুক্ত করে এনে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দেওয়া তরুণের গল্প নিয়ে পরিচালক গুণাশেখর ২০০৩ সালে নির্মাণ করেন রোমান্টিক অ্যাকশন মুভি Okkadu. মহেশ বাবু, ভূমিকা চাওলা ও প্রকাশ রাজ অভিনীত এই তেলুগু ছবিটিও ব্লকবাস্টার হিটের তকমা পায়। এর দেখাদেখি এম ডি মোতালেব ২০০৬ সালে নির্মাণ করেন “দাপট”। প্রিন্স, পপি ও মান্না অভিনীত এই ছবিটি মোটামুটি সফলতা অর্জন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে একই গল্পে শাহাদাৎ হোসেন লিটন নির্মাণ করেন “বলো না কবুল”। শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও মিশা সওদাগর অভিনীত এই ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়। ২০১৫ সালে আবার এই গল্পে কালাম কায়সার নির্মাণ করেন “ভালোবাসতে মন লাগে”। হৃদয় চৌধুরী, নির্জনা ও আসিফ ইকবাল অভিনীত এই ছবিটিও সফলতার মুখ দেখেনি। অতঃপর ২০১৭ সালে জসিম উদ্দিন জাকির এই গল্পে নির্মাণ করেন “মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা”। জেফ, রোদেলা তিথী ও সাইফ খান অভিনীত এই ছবিটিও পর্যাপ্ত সফলতা পায়নি।

৭. Bunny (2005) : এক মধ্যবিত্ত ঘরের যুবকের ধনীর দুলালীর সাথে প্রেম ও প্রতিশোধের গল্প নিয়ে পরিচালক ভি.ভি. ভিনায়াক ২০০৫ সালে নির্মাণ করেন রোমান্টিক কমেডি মুভি Bunny. আল্লু অর্জুন ও গৌরি মুঞ্জল অভিনীত এই তেলুগু ছবিটি বক্স অফিস হিট হয়। ২০০৭ সালে একই গল্প নিয়ে সোহানুর রহমান সোহান নির্মাণ করেন “কথা দাও সাথী হবে”। শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস অভিনীত এই ছবিটি ঈদ উপলক্ষে মোটামুটি ব্যবসাসফল হয়। অবশেষে দেবাশীষ বিশ্বাস ২০১৩ সালে একই গল্পে নির্মাণ করেন “ভালোবাসা জিন্দাবাদ”। আরিফিন শুভ ও আইরিন সুলতানা অভিনীত এই ছবিটিও মোটামুটি সফলতা পায়।

৮. Vikramarkudu (2006) : একজন সৎ ও সাহসী পুলিশ অফিসারের মৃত্যুর পর তার সন্তান ও অসম্পূর্ণ কাজের দায়িত্ব নেয় তারই মত দেখতে এক চোর। এমনই গল্প নিয়ে এস.এস. রাজামৌলি ২০০৬ সালে নির্মাণ করেন কমেডি অ্যাকশন তেলুগু মুভি Vikramarkudu. রবি তেজা (দ্বৈত চরিত্রে), আনুশকা শেট্টি অভিনীত এই তেলুগু ছবিটি ব্লকবাস্টার হিট হয়। এরপরের বছর ২০০৭ সালে পরিচালক মালেক আফসারি এই ছবিটি “উল্টা পাল্টা 69” নামে নির্মাণ করেন। মান্না (দ্বৈত চরিত্রে) ও পূর্ণিমা অভিনীত ছবিটি মোটামুটি সফলতা পায়। এরপর ২০১৫ সালে ইফতেখার চৌধুরী আবার এই ছবিটির নারী সংস্করণ “অ্যাকশন জেসমিন” নির্মাণ করেন। ইয়ামিন হক ববি (দ্বৈত চরিত্রে) ও সাইমন সাদিক অভিনীত ছবিটি আশানুরূপ সফলতা অরজনে ব্যর্থ হয়।

৯. Don (2007) : একজন দেশপ্রেমিক গ্যাংস্টার ও এক দেশদ্রোহী গ্যাংস্টারের আদর্শগত দ্বন্দ্বের গল্প নিয়ে রাঘব লরেন্স ২০০৭ সালে নির্মাণ করেন গ্যাংস্টার আ্যাকশন মুভি Don. আক্কিনেনি নাগার্জুন, আনুশকা শেট্টি ও কেলী দর্জি অভিনীত এই তেলুগু ছবিটি সুপারহিট তকমা পায়। এই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে মূল গল্পটাকে একটু এদিক-সেদিক করে শাহীন সুমন ২০১১ সালে নির্মাণ করেন “অংক“। ডিপজল, দিতি, মিশা সওদাগর ও কাজী মারুফ অভিনীত এই সিনেমাটি বক্স অফিসের অংক মেলাতে ব্যর্থ হয়। বদিউল আলম খোকন সাহেব আবার ছবিটি প্রায় হুবহু নকল করে ২০১২ সালে “ডন নাম্বার ওয়ান” নির্মাণ করেন। শাকিব খান, শাহারা ও মিশা সওদাগর অভিনীত ছবিটি ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়ে ব্যাপক ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করে। পরিচালক আজাদ খান ছবিটাকে আবার খুবলিয়ে ২০১৪ সালে নির্মাণ করেন “দাবাং“। জায়েদ খান, বিন্দিয়া, অমিত হাসান ও লিটন হাশমি অভিনীত ছবিটি অদ্ভুত নামের কারনে সমালোচনা ছাড়া আর কিছুরই জন্ম দিতে পারেনি।

১০. Ontari (2008) : নিজের মনের মানুষের খুনের প্রতিশোধ নিতে বেপরোয়া এক প্রেমিকের গল্প নিয়ে বি.ভি. রামানা ২০০৮ সালে নির্মাণ করেন রোমান্টিক অ্যাকশন মুভি Ontari. গোপীচাঁদ ও ভাবনা অভিনীত এই তেলুগু ছবিটি ব্যাপক সফলতা পায়। পরে ২০১১ সালে বদিউল আলম খোকন ছবিটি “বস নাম্বার ওয়ান” নামে এই ছবিটি রিমেক করেন। শাকিব খান, শাহারা ও নিপুণ অভিনীত এই ছবিটি ঈদুল আযহায় মুক্তি পেয়ে মোটামুটি ভালই ব্যবসা করে। ২০১৩ সালে রকিবুল আলম রকিব আবারও এই ছবিটি “প্রেমিক নাম্বার ওয়ান” নামে নির্মাণ করেন। আবারও শাকিব খান ও নিপুণের সাথে অপু বিশ্বাস অভিনীত এই ছবিটি ব্যবসায়িক সফলতা পায়নি।

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত দর্শকদের কষ্টের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারোই নেই। মানুষ নতুন সিনেমা দেখতে চায়, সিনেমাতে নতুনত্ব দেখতে চায়। বাইরে নতুনত্বের চাকচিক্য দেখিয়ে ভেতরে পুরাতন মাল খাইয়ে দর্শকদের প্রতারিত করার প্রবণতা আমাদের নির্মাতাদের অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। এমনিতেই আমাদের দেশীয় সিনেমার অনেক দোষ; তার উপরে ‘মরার উপর খরার ঘা’ হিসেবে এই ধরণের দুর্নীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

(চলবে)

Comments

comments