আন্দামান ভ্রমণের যতসব অভিজ্ঞতা

আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ

হঠাৎ করেই স্কুবা ডাইভের ভূত ঘাড়ে চেপেছিলো। হন্যে হয়ে খুঁজতে শুরু করলাম কোথায় সবচেয়ে কম খরচে স্কুবা ডাইভ করা সম্ভব? তখনই দেখলাম একমাত্র বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আন্দামানেই খুব সহজসাধ্য এই সুযোগ রয়েছে। এরপর শুরু হলো আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। বলতে গেলে খুবই কম পরিমাণ টাকা হাতে নিয়ে আন্দামান ভ্রমণে বেরিয়েছিলাম।

৫৭২টি দ্বীপের সমষ্টিতে গড়ে উঠা ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ আন্দামান। সৌন্দর্যের দিক থেকে যেমন অবর্ণনীয়, তেমনি আন্দামান ভ্রমণের অভিজ্ঞতাগুলোও হয় অসাধারণ। যারা আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য আন্দামান যাওয়া আসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য এখানে শেয়ার করছি !

আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ যাতায়াত সম্পর্কিত ধারণা

যাতায়াত খরচ সহ মোট ৯দিনে আমরা ৪ জনে বিমানপথে ঘুরে এসেছি আন্দামানে। শুধুমাত্র ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়েই আমরা সেখানে গিয়েছি। আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার বিমান বন্দরে পাসপোর্টের ফটোকপি জমা দিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম ফিলআপ করার পর ৩০ দিন আন্দামানে থাকার অনুমতি পেয়ে যাই সবাই।

বিমানভাড়া, থাকা-খাওয়া, ঘোরাঘুরি, স্কুবা ডাইভ, গ্লাসবোট রাইড সহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক সব খরচ মিলিয়ে আমার ঢাকা থেকে গিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে আসা পর্যন্ত খরচ পরেছে মোট পয়ত্রিশ হাজার টাকা। আমি বাংলাদেশ থেকে কোনো হোটেলে বুকিং দিয়ে যাইনি। এবং এ নিয়ে অনেক হয়রানিমূলক অভিজ্ঞতাও হয়েছে। তাই অবশ্যই বাংলাদেশ থেকে হোটেল বুক করে নিবেন।

প্রায় ১০-১২টি দ্বীপের অসাধারণ মনোমুগ্ধকর সব সমুদ্রতটে ঘোরার সুযোগ হয়েছিলো এসময়ে।

আন্দামান ভ্রমণে খাবার ব্যবস্থা

যেহেতু আন্দামান ভারতেরই ভূখণ্ড, তাই এর খাবার-দাবার, নিয়মনীতি পুরোটাই গোটা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে। যথেষ্ট কমদামে ভালো মানের খাবার এখানে পাওয়া যায়। তবে সব দোকানের খাবার কিন্তু একই রকম সুস্বাদু নয়। এখানে খাওয়া নিয়ে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। আমি সেখানে এমনও দোকান পেয়েছি, যারা ঘুম থেকে উঠে মধ্যরাতে আমাদের পছন্দমত খাবার রান্না করে দিত !

আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ

আন্দামান ভ্রমণে আমার দেখা উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো

  • Port Blair শহরের মধ্যেই Carbyns Cove Beach, Cellular Jail, and Sound & Light Show, Jogger’s Park, Gandhi Park !
  • সবচেয়ে লোমহর্ষক ছিল Jarawa forest এর ভিতর দিয়ে যাবার পথটুকু, যেটার গেইট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে খোলা হয়। যে কয়টা গাড়ী ওই সময়ের মধ্যে সিরিয়ালে আসে, শুধুমাত্র তাদেরকেই এন্ট্রি করা হয়। এরপর গেইটে প্রবেশের আগে শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট গতিতে চলার নির্দেশনা দিয়ে সিরিয়ালের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত পুলিশ প্রহরায় চলাচল করতে হয় সবাইকেই।
  • Rangat হয়ে Baratang দ্বীপে Lime stone Caves, Mangrove Walkway Creeks, Mud volcano। Mayabunder এ MoriceDera, Karamatang Beach, Diglipur Island জায়গাগুলোও ছিলো দেখার মত।
  • আমার চোখে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিলো Ross and Smith island, যেখানে একজোড়া দ্বীপের মধ্য দিয়ে পায়ে হেঁটে পার হয়ে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাওয়া যায়।
  • Havelock Island, Radhanagar Beach -এ গিয়েছি, যা কিনা Best Beach in Asia অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে।
  • তারপর গিয়েছি Kalapathar Beach, Vijay Nagar Beach। Neil island, Ramnagar Beach, Bharatpur Beach, Sitapur Beach, Kalipur Beach, Laxmanpur Beach, Bharatpur, Natural bridge । Ross island (ব্রিটিশ শাসনামলে যেখানে Port Blair এর রাজধানী ছিলো) !
  • এবং সবশেষে ঘুরে এসেছি Wandoor Beach এর Fishires Museum, Samudrika Museum, Anthropological Museum তিনটি মিউজিয়াম !

উল্লেখযোগ্য তথ্যঃ

  • আন্দামান ভ্রমণে যেতে ইচ্ছুকরা অবশ্যই সাথে করে পাসপোর্টের কমপক্ষে এক ডজন ফটোকপি নিয়ে যাবেন। প্রতিটা মুহূর্তেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যখন-তখন পাসপোর্টের ফটোকপি চাইতে পারে।
  • যেহেতু আন্দামানে বাঙ্গালীদের আবির্ভাব বেশী। তাই লজ্জাজনক হলে একটা কথা বলতেই হচ্ছে, এখানে যেকোনো ক্ষেত্রে বাঙ্গালীদের দ্বারাই প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিজ দায়িত্বে আপনাকে সাবধান থাকতে হবে।
  • যেকোনো তথ্যের জন্য পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য চাইতে পারেন। পৃথিবীর অন্যসব উন্নত দেশের মতই এখানাকার পুলিশ যথেষ্ট সহযোগী মনোভাব রাখে।
  •  প্রয়োজন মনে করলে বিমানবন্দর থেকেই ইনফরমেশন ডেস্কের যোগাযোগ নম্বরগুলো সংগ্রহ করে নিতে পারেন।
  • কোনে‍া প্যাকেজে গেলে কম খরচের আশায় যদি অপ্রতিষ্ঠিত এজেন্টের কাছে চলে যান, তাহলে ভোগান্তি অনেকদূর যেতে পারে। এক্ষেত্রে আগে থেকেই এজেন্টের পূর্ণ বিবরণ জেনে নেয়া আপনার জন্য মঙ্গলকর।

Comments

comments