লালবাগ কেল্লার সুড়ঙ্গ রহস্য !

লালবাগ কেল্লার সুড়ঙ্গ রহস্য

ঢাকার ভেতর দর্শনীয় স্থানগুলোর কথা বললে সবার প্রথমে যে কয়েকটা ‍জায়গার নাম আসবে, তারমধ্যে একটি হচ্ছে এই লালবাগ কেল্লা ! ছোটবেলা থেকেই আমরা বইপত্রে কমবেশ লালবাগ কেল্লার ইতিহাস পড়ে বড় হয়েছি। কিন্তু এই বিশাল আকারের প্রাচীন নিদর্শনটিকে ঘিরে লোকমুখে প্রচলিত রহস্যগুলোর আজো কোনো ‍উত্তর মিলেনি।

আসুন আজ লালব‍াগ কেল্লার সেই প্রচলিত রহস্যগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক !

প্রচলিত সুড়ঙ্গ রহস্য

লালব‍াগ কেল্লার নিচে রয়েছে অনেকগুলো সুড়ঙ্গ। এগুলো জমিদার আমলে তৈরি করা হয়। জমিদাররা বিপদের সময় এসব সুড়ঙ্গ পথে পালিয়ে যেতেন। তেমনই একটি সুড়ঙ্গ আছে এখানে, যার ভেতরে কেউ ঢুকলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ কেউ এই সুড়ঙ্গের ভেতর প্রবেশ করলে সে আর ফিরে আসে না। পরীক্ষা করার জন্য একবার ২টা কুকুরকে চেইনে বেঁধে সেই সুড়ঙ্গে নামানো হয়েছিলো। চেইন ফেরত আসলেও কিন্তু কুকুর দুটো ফিরে আসেনি।

লালব‍াগ কেল্লা সুড়ঙ্গ পরিচিতি

সুবেদার আজম শাহ ১৬৭৮ সালে ঢাকায় একটি প্রাসাদ দুর্গ নির্মাণে হাত দেন। তখন ঢাকার সুবেদারদের থাকার জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা ছিল না। স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করতে আসা সুবেদাররা ঢাকায় স্থায়ী ভবন নির্মাণে কোনো উৎসাহ দেখাননি। যুবরাজ আযম শাহ প্রথম এই উদ্যোগ নেন। তিনি অত্যন্ত জটিল একটি নকশা অনুসরণ করে দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন। তিনি দুর্গের নামকরণ করেন কিল্লা আওরঙ্গবাদ। কিন্তু পরের বছর সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে দিল্লি ফেরত পাঠান। ফলে দুর্গের কাজ অসমাপ্ত রেখে তাঁকে দিল্লি চলে যেতে হয়।

এরপর সুবেদার হয়ে দ্বিতীয়বারের মত ঢাকা আসেন শায়েস্তা খাঁ। যুবরাজ আযম শাহ তাঁকে লালবাগ দুর্গের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য অনুরোধ করেন। শায়েস্তা খাঁ দুর্গের কাজ পুনরায় শুরু করেন কিন্তু ১৬৮৪ সালে তাঁর অতি আদরের মেয়ে পরি বিবি অকস্মাৎ মারা গেলে তিনি অশুভ মনে করে এর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। এর পরিবর্তে নির্মাণ করেন চিন্তাকর্ষক পরিবিবির মাজার ‍বা পরিবিবির সমাধিসৌধ !

এরমধ্যে লালবাগ দুর্গের প্রায় ১২ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যায়। দুর্গের নিয়ম অনুযায়ী একটি ভূগর্ভস্থ পথও নির্মাণ করা হয়। আত্মরক্ষা কিংবা প্রয়োজনবশত পালিয়ে যাওয়ার জন্য সাধারণত এ পথ ব্যবহৃত হয়। দুর্গের দক্ষিণ-পূর্ব দেয়ালের সঙ্গে যুক্ত আছে এ সুড়ঙ্গ পথটি।

সুড়ঙ্গ সম্পর্কে যুক্তিগত মতামত

স্থাপত্যিকদের মতে, এ পথটি প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে টঙ্গী নদীর সঙ্গে যুক্ত। আবার কেউ মনে করে, এটি একটি জলাধারের মুখ। এর ভেতরে একটি বড় চৌবাচ্চা আছে। মোঘলদের পতনের পর লালবাগ দুর্গ যখন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, তখন ঢাকাবাসীর সব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এই সুড়ঙ্গ। আর তখন থেকেই নানা মুখরোচক কাহিনী চালু হয় সুড়ঙ্গটি নিয়ে।

যেহেতু সুড়ঙ্গ পথের রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আজ পর্যন্ত প্রত্নতাত্তিক খনন কাজ হয়নি, তাই এটি নিয়ে নানা কল্পকাহিনী চালু আছে। এ কারণেই এ সুড়ঙ্গ পথটি ঢাকার আদি বাসিন্দাদের কাছে এক বিরাট রহস্য। তাই আজও এই সুড়ঙ্গের সামনে তারা জড়ো হয়ে দাঁড়ায়। জানমালের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় বা কৌতূহলবশত কেউ যেনো এর ভেতরে প্রবেশ না করে, সেজন্য সুড়ঙ্গমুখে গেট নির্মাণ করে তাতে তালা দেওয়া হয়েছে।

Comments

comments