পোকা খাওয়া সভ্যতা…

পোকা খাওয়া

পৃথিবীতে সম্ভবত মানুষই একমাত্র প্রানী, যারা সব ধরনের খাবার খায়। মাছ, মাংস থেকে শুরু করে লতাপাতা ফলমূল কীটপতঙ্গ এমনকি পতঙ্গের বিষ্ঠাও বাদ যায়নি মানুষের খাদ্যতালিকা থেকে। অবাক হচ্ছেন? মধু কিন্তু মৌমাছির পরিপাককৃত খাদ্য 😉

যাই হোক, আজ আপনাদের বৈচিত্র্যময় মানবজাতির খাদ্য তালিকায় কি কি পতঙ্গ সাদরে স্থান পেয়েছে তার গল্প বলবো।

বিভিন্ন দেশ ও জাতি ভেদে মানুষের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি আর স্বভাব যেমন ভিন্নতর হয়, ঠিক তেমনি ভিন্ন হয় পছন্দের খাদ্য সামগ্রী। আমাদের জন্যে যা অখাদ্য কিংবা বিকৃত রুচির পরিচয় বহন করে, সেইসব খাবার আবার অনেক দেশে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে বসে আছে। এবার কয়েকটি দেশের অনুপাতে অদ্ভুত কিছু খাদ্যাভাসের কথা বলি…

পোকা খাওয়া

থাইল্যান্ড : এই দেশের মানুষের বিকেল বেলার নাস্তায় খুব জনপ্রিয় হচ্ছে ঘাসফড়িঙ, ঝিঁঝিঁ পোকা আর ঘুণ পোকা। স্ট্রিটফুড হিসেবে এইসব ভাজা মচমচে পোকার চাহিদা প্রচুর। থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিকভাবে এসব পোকার চাষ করা হয়। তাছাড়া পিঁপড়ার ডিম এখানে খুব দামী খাদ্য হিসেবে প্রচলিত আছে।

ঘানা : বসন্তকালে ঘানায় প্রচুর খাদ্যাভাব দেখা দেয়। এখানকার জনগণ ওই সময়ে তাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে উঁইপোকার মাধ্যমে। এরা পোকাগুলো ভাজি কিংবা ভূণা করে খায়, আবার কখনো কখনো রুটি তৈরীতেও ব্যাবহার করে। আমাদের দেশে যেই উঁই ঘর-বাড়ি ধ্বংস করে, ওদের দেশে তা জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে!

মেক্সিকো : মেক্সিকো’র অধিবাসীরা সারাবছরই বিভিন্ন ধরনের পোকা খেয়ে থাকে। সিদ্ধ করে, ভেজে কিংবা চকলেট তৈরীতে এরা পোকা ব্যাবহার করে। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে টাকিলার সাথে পোকা খাওয়া। এক শট টাকিলায় একটা শুঁয়োপোকা যেন এদের কাছে বেহেশতি পানীয়!

চীন : পোকামাকড় খাওয়ার ব্যাপারে বিখ্যাত হচ্ছে চাইনিজরা। তিনবেলার প্রধান খাদ্যে, বিকেলের নাস্তায় কিংবা অতিথী আপ্যায়নে এরা নানান জাতের পতঙ্গ ব্যাবহার করে। মৌমাছি’র লার্ভা এদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় আর বিলাসবহুল খাদ্য। আবার রাস্তার পাশের সস্তা দোকানগুলোতেও বিভিন্ন জাতের পোকামাকড়, যেমন তেলাপোকা ভাজা পাওয়া যায়।

ব্রাজিল : ব্রাজিলের নিম্নবিত্ত অধিবাসিদের একটা ঐতিহ্যবাহী খাদ্য হচ্ছে বেশ বড় জাতের রানী পিঁপড়া, যাকে ব্রাজিলীয় ভাষায় ‘ইকাস’ বলা হয়। তবে বর্তমানে ওখানকার উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট গুলোতেও এই পিঁপড়ার চাহিদা বাড়ছে। তাদের মতে এই পিঁপড়াগুলোর স্বাদ অনেকটা মিন্ট চকলেটের মত।

পোকামাকড়

অস্ট্রেলিয়া : অস্ট্রেলিয়‍ার বিভিন্ন উপজাতিরা এক ধরনের পিঁপড়া খেয়ে থাকে, যার নাম “হানি-পট অ্যান্ট”। বিশেষ জাতের এই পিঁপড়াগুলোর শরীরের তুলনায় পেট অনেকটা বড় আর পেটের ভিতরটা স্বচ্ছ। তামাটে রঙের এই পেটের ভিতরের জলীয় পদার্থ দেখতে অনেকটা মধুর মত বলেই এদের নাম হানি-পট অ্যান্ট বা হানিঅ্যান্ট।

জাপান : অদ্ভূত সব খাদ্যাভ্যাসের জন্যে বিখ্যাত জাপানিরা। পোকা খাওয়ায় ওস্তাদ এই জাতির সবচেয়ে পছন্দের খাবার গুলোর একটা হচ্ছে ‘ইনাগো’। ঘাসফড়িং ভেজে তৈরি করা হয় এই ইনাগো। এদের আরেকটি প্রধান খাদ্য হচ্ছে ‘জাজা-মুশি’ বা শুঁয়োপোকার লার্ভা।

এছাড়াও নেদারল্যান্ড কিংবা আমেরিকার মত উন্নত দেশগুলোতে ইদানিং খাদ্যতালিকায় পোকামাকড়, বিশেষ করে ঝিঁঝিঁ পোকা গুরুত্বসহকারে স্থান পাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর একটা বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারে কীটপতঙ্গ। এজন্য কিছু কিছু দেশে পোকামাকড় খাওয়ার প্রতি সরকারীভাবেও উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।

পোস্টটা পড়ার পর গরম তেলে ভেজে একটা তেলাপোকা টেস্ট করে দেখেনই না, কেমন লাগে ! 😉

Comments

comments