নিখোঁজ হবার ৩৭ বছর পর ফিরে এসেছিলো যে বিমানটি

নিখোঁজ বিমান

সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অব্দি মানবজাতি শত শত রহস্য প্রত্যক্ষ করেছে, পিছু নিয়েছে এবং সেসব রহস্যের কারন অনুসন্ধান করে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে। যুগে যুগে উন্নত হয়েছে বিজ্ঞান, উন্নত করেছে আমাদের জীবন ব্যাবস্থা। আমরা অজানাকে জেনেছি, অধরা আকাশ থেকে শুরু করে গভীর সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত ছুঁয়ে এসেছি। তবু’ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞান আজও অসহায়। কিছু কিছু রহস্যের কোনো কূল-কিনারা বের করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। টাইম ট্রাভেল কিংবা সময় পরিভ্রমণ এদের মধ্যে অন্যতম।

টাইম ট্রাভেল কি এ সম্পর্কে তো আমরা প্রায় সবাই জানি। সময়ের গতিপথের নিয়ম অতিক্রম করে চলমান সময় থেকে বের হয়ে কোনো অনির্দিষ্ট সময়ে পাড়ি দেয়াই টাইম ট্রাভেল।

এই টাইম ট্রাভেলের বিষয়টা কি শুধুই মানুষের মস্তিষ্কজাত অযাচিত কল্পনা, নাকি বাস্তবেও এটা সম্ভব? এই বিষয়ে বিজ্ঞান এখনো নিরব। আজ অব্দি কোনো বিজ্ঞানী সুনির্দিষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য এবং সর্বজনগ্রাহ্য ব্যাখ্যার মাধ্যমে টাইম ট্রাভেলের অস্তিত্ব স্বীকার করতে পারেনি। তবে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া কিছু কিছু ঘটনা আমাদের বাধ্য করে টাইম ট্রাভেলের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে। সেরকমই একটা ঘটনার গল্প বলবো আজ।

নিখোঁজ বিমান Flight No 914

২১ মে, ১৯৯২…

ভেনিজুয়েলা’র কারাকাস বিমান বন্দর। ওইদিন তাদের কন্ট্রোল টাওয়ারের রাডারে একটি অপরিচিত বিমানের অস্তিত্ব ধরা পরে। বিমানটি ধীরে ধীরে তাদের রানওয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলো। রানওয়ের কাছাকাছি আসার পর বিমানের পাইলট এবং সহকারী পাইলক কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করে এবং তাদের বিমানটি সেখানে অবতরণ করানোর অনুমতি চায়। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তারা জানায়, তাদের ফ্লাইট নাম্বার ৯১৪ এবং এই বিমানে ৪ জন ক্রু-মেম্বারসহ ৫৭ জন যাত্রী রয়েছে। তারা ২২ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে নিউইয়োর্ক থেকে মায়ামি’র উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলো। কিন্তু পথ হারিয়ে তারা এই বিমান বন্দরে চলে এসেছে।

এরপর বিমানটির পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারের কাছে এই বিমান বন্দরের অবস্থান জানতে চায়। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জানানো হয় এটি ভেনিজুয়েলা’র কারাকাস বিমান বন্দর এবং সময়টা ১৯৯২ সাল। আর তাছাড়া এটি মায়ামি থেকে প্রায় ১৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটা জানার পর পাইলট এবং সহকারী পাইলট খুবই বিস্মিত হয় এবং তারা বলতে থাকে “ও মাই গড! হাউ ইজ দিস পসিবল!”

কন্ট্রোল টাওয়ারের রেডিওতে তাদের এসব কথাবার্তা শুনতে পেয়ে তারা বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেয় এবং তাদের সুবিধার জন্যে বিমান বন্দরের কয়েকজন গ্রাউন্ড স্টাফকে রানওয়েতে পাঠায়। বিমানটি যখন মাটির কাছাকাছি চলে আসে তখন দেখা যায় সেটি একটি চার্টার্ড ডিসি-৪ এয়ারক্রাফ্ট। কন্ট্রোল টাওয়ারের কর্মচারীরা এবং রানওয়ের গ্রাউন্ড স্টাফরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করে বিমানের পাইলট এবং যাত্রীরা হতভম্ব চোখে তাদের দিকে তাকাচ্ছে। কন্ট্রোল টাওয়ারের রেডিওতে শুনতে পাওয়া পাইলটদের কথাবার্তা থেকে বুঝা যাচ্ছিলো তারা খুবই অবাক হয়েছে এখানকার বিমান বন্দর এবং বিমানগুলো দেখে। যেন এগুলো বিমান নয়, বরঞ্চ কোনো ভীনগ্রহী এলিয়েনদের স্পেসশীপ। রানওয়ে স্পর্শ করার পরপরই পাইলট দুজন সিদ্ধান্ত নেয় তারা এখানে অবতরণ করবে না। তারা বিমানটির গতি না কমিয়ে রানওয়ের গ্রাউন্ড স্টাফদের নিরাপদ দুরত্বে সরে যাবার জন্যে ইশারা করে। এই সময় সহকারী পাইলট বিমানের জানালা দিয়ে ছোট একটি ক্যালেন্ডার নিচে ফেলে দেয়। পরক্ষণেই তারা আবার উড্ডয়ন করে এবং ধীরে ধীরে রাডারের সীমানার বাইরে চলে যায়। এরপর বিমানটি কোথায় গিয়েছে তা আর কখনো জানা যায়নি। ওই ঘটনার পর আমেরিকার তদন্তকারী সংগঠন এফবিআই এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সকল প্রকার তথ্য উপাত্ত সর্বোচ্চ গোপনীয়তার সাথে তাদের আয়ত্বে নিয়ে নেয়। এই কারনে পরে আর কারাকাস বিমান বন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারের রাডার বা তাদের রেডিওতে রেকর্ড হওয়া পাইলটদের কথোপকথনের কোনো দলিল পাওয়া যায়নি।

ডিসি-৪ বিমানটির পাইলটের ফেলে যাওয়া ক্যালেন্ডারটি ছিলো ১৯৫৫ সালের। পরে জানা যায় এই ডিসি-৪ বিমানটি সত্যিই ১৯৫৫ সালে নিউইয়োর্ক থেকে মায়ামি’র উদ্ধেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলো। কিন্তু ৪ জন ক্রু-মেম্বার এবং ৫৭ জন যাত্রীসহ বিমানটি নির্দিষ্ট সময়ে মায়ামি-তে পৌঁছায়নি, এবং পরে এর কোনো হদিসও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ আকাশপথেই বিমানটি হারিয়ে গিয়েছিলো।

১৯৫৫ সালে হারিয়ে যাওয়া বিমান কিভাবে ৩৭ বছর পর কয়েক মিনিটের জন্যে ১৯৯২ সালে ফিরে এলো, এই ৩৭ বছর তারা কোথায় ছিলো, বিমানে অবস্থানরত ৬১ জন মানুষের প্রত্যেকেই কিভাবে এতগুলো বছর জীবিত রয়েছে…

এরকম হাজারো প্রশ্নের কোনো উত্তর আজও মেলেনি। টাইম ট্রাভেলের রহস্য উদঘাটন করার আগ পর্যন্ত হয়ত এসব প্রশ্নের কোনো উত্তরও পাওয়া যাবে না।

Comments

comments

SHARE