২০১৮ সালের সবচেয়ে ভয়ংকর ৩ ব্যক্তি

ভয়ংকর ব্যক্তি

ঠিক এই মুহুর্তে আমরা যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিউক্লিয়ার থ্রেট নিয়ে রম্য রসিকতা করছি, ঠিক সেই সময়ই পৃথিবীর চারপাশে ঘটে চলেছে নানান সব ভয়ংকর রকমের কাজ কারবার। অস্ত্র, ছিনতাই, কিডন্যাপিং থেকে শুরু করে বুকে বাধা সুইসাইড বোম্ব, সব মিলিয়ে ভয়ানক এক যুদ্ধের রণক্ষেত্র হয়ে গেছে পৃথিবী ! অপরাধের ধারাও পাল্টে যাচ্ছে সময়ের সাথে সাথে। একদিকে এক অপরাধী জেলে যাচ্ছে, অন্যদিকে আরেক অপরাধী জন্মাচ্ছে। শান্তি যেনো আর ফিরছেই না…

আজকের এই পোস্টে আমরা এমন তিন জনকে নিয়ে কথা বলবো, যারা এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষ হিসেবে প্রশাসনের নজরদারীতে আছেন। চলুন জেনে নেয়া যাক তাদের কথা !

১. কোডি উইলসন (উইকি ওয়েপনসের প্রতিষ্ঠাতা) : ২৫ বছরের কোডি উইলসন এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর আসামীদের একজন। থ্রিডি প্রিন্টিং মেশিন দিয়ে ঘরে বসেই বন্দুক তৈরির বিস্ময়কর পদ্ধতি আবিষ্কার করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এই মার্কিন যুবক। কোডির এ আবিষ্কার বন্দুকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও ধারণা করা হয়েছে। তার এই প্রযুক্তি বিশ্বকে হুমকির ম‍ুখে ফেলে দিতে পারে ধারণা হয়। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা নেয়াও সম্ভব হয়নি।

২. সেমিওন মোগিলেভিচ (দ্য‍ ইউক্রেনিয়ান মবস্টার) : ইউক্রেনে জন্ম নেয়া সেমিওন মোগিলেভিচ’কে ইউরোপ ও আমেরিকার প্রশাসনিক সংস্থাগুলো অভিহিত করতো পৃথিবীর তাবৎ রাশিয়ান মাফিয়া সিন্ডিকেটের ‘সর্দারদের সর্দার’ হিসেবে ! প্রখর বুদ্ধিমত্তার কারণে তাকে ‘দ্য‍ ইউক্রেনিয়ান মবস্টার’ এবং ‘দ্য ব্রেইনি ডন’ নামেও ডাকা হত। ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে ২০০৮ সালে মোগিলেভিচকে মস্কোতে গ্রেফতার করা হয়। আবার এক বছরের কম সময়ের মধ্যে ছাড়া পাওয়ার ব্যবস্থা করে ফেলে সে। রাশিয়ার সরকারি বক্তব্যে বলা হয়, মোগিলেভিচের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো ‘খুব একটা গুরুতর’ ছিল না ! এফবিআই এর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষ দশের মধ্যে চার নাম্বারে আছে মোগিলেভিচের নাম। এফবিআই এর ঘোষণা অনুযায়ী ‘পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মবস্টার’ হিসেবে কুখ্যাতি পাওয়া মোগিলেভিচ অবৈধ অর্থ আয় করেছিলো প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, নারী পাচার, পতিতা ব্যবসা ও মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর এক অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলা সেমিওন মোগিলেভিচ মস্কোতে স্বাধীনভাবেই বসবাস করছেন। এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া সম্ভব হয়নি।

৩. আবু বকর শেকাউ (দ্য ম্যাস কিডন্যাপার) : নাইজেরিয়ার বোকো হারাম দলের নেতা আবু বকর শেকাউ। ২০১৪ সালে বোমা হামলা ও গণহত্যা সহ প্রায় ১৪টি ঘটনা একবছরের মধ্যে ঘটিয়ে আলোচনায় আসেন আবু বকর শেকাউ ওরফে দ্য ম্যাস কিডনাপার ! এখন পর্যন্ত প্রায় ২২৩ জন খিষ্ট্রান স্কুলছাত্রীকে কিডন্যাপ করেছে এই লোক। কিন্তু তাকে দমানোর কোনো উপায়ই খুঁজে পায়নি সেখানকার সরকার !

Comments

comments

SHARE