রাজনীতিতে এসে মাশরাফি কি ভক্তদের ভালোবাসা হারালেন ?

মাশরাফি
রাজনীতিতে মাশরাফি বিন মর্তুজা | ছবি : ছারপোকা ম্যাগাজিন

মাশরাফি বিন মর্তুজা – হাজারো, লাখো কিংবা কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়া একটি আবেগের নাম। আবেগ কিংবা ভালোবাসা যাই বলি না কেনো, মাশরাফির প্রতি সেটা যেনো ক্রমবর্ধমানই ছিলো। কিন্তু সম্প্রতি নড়াইল-২ আসনে সংসদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভক্তদের ভালোবাসা থেকে কিছুটা হলেও ছিটকে পড়েছেন মাশরাফি। প্রশ্ন এখন এটাই, রাজনীতিতে এসে মাশরাফি কি ভক্তদের ভালোবাসা হারালেন ? এর উত্তর আপনাদের কাছে। তার আগে চলুন এই সিদ্ধ‍ান্তে আসি, মাশরাফির রাজনীতিতে আসা উচিত কি উচিত নয়?

প্রত্যেকটি নাগরিকের যোগ্যতা সাপেক্ষে নির্বাচনের অধিকার থাকলেও সার্বিক বিবেচনায় এখনই মাশরাফির রাজনীতিতে প্রবেশ করা উচিত নয়। কিন্তু কেনো?

নড়াইলে সংসদীয় আসন রয়েছে মোট দুইটি। নড়াইল ১ (৯৩ নং আসন) ও নড়াইল (২)।মাশরাফির নির্বাচনী এলাকা নড়াইল -২। অর্থাৎ জাতীয় সংসদের ৯৪ নং আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন তিনি। নড়াইল-২ আসনটি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলা, আর কালোড়া ইউনিয়ন, বিচালি ইউনিয়ন, ভদ্রবিলা ইউনিয়ন, সিঙ্গাশোপুর ইউনিয়ন, শেখ হাটি ইউনিয়ন ব্যতীত নড়াইল সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই বৃহৎ পুরো এলাকায় তাকে নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে হবে পুরো নির্বাচনের সময়টুকু!

সামনেই বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের আগে চলমান জিম্বাবুয়ে সিরিজ ছাড়াও রয়েছে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সাথে হোম সিরিজ, নিউজিল্যেন্ডের সাথে এওয়ে সিরিজ, আয়ারল্যান্ডের সাথেও সম্ভাব্য সিরিজ রয়েছে। নির্বাচনে সময় দিলে মানসিক ও শারীরিকভাবে খেলার প্রতি স্বভাবতই আগ্রহ কমে যাবে।

ধরে নেওয়া যাক, খেলাধুলা করে এবং নির্বাচনী প্রচারনা একত্রে সামলিয়ে মাশরাফি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলেন। এক্ষেত্রে তার দায়িত্ব কতটুকু থাকবে? পুরো নড়াইল ২ এলাকাবাসীর স্বার্থ দেখভালের দায়ভার তার উপর বর্তাবে। একজন সংসদ সদস্য যদি ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকে তাহলে তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। অনেক সময় এওয়ে প্রস্তুতি, মূল সিরিজ মিলিয়ে মাস দুয়েক সময় লেগে যায়। তখন কিভাবে সংসদে সময় দিবেন মাশরাফি? কিংবা দীর্ঘসময় অনুপস্থিত থাকার ফলে নড়াইলের প্রসাসনিক কাজকর্মের ক্ষতি হলে সেই দায় মাশরাফির ঘাড়েই চাপবে না?

মাশরাফির নির্বাচন করার অধিকার রয়েছে কিন্তু সেটা এখনই নয়। সঠিক সময়ে নির্বাচন করলেও মাশরাফির উচিত হবে বাংলাদেশের রাজনীতির চলমান বিভীষিকাময় দলগুলোর নির্মম রাজনীতি থেকে দূরে থেকে এককভাবে দল গঠন করা। যেমনটা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। অন্যথায় যেই ভালোবাসাটা তিনি সারা জীবনে অর্জন করেছেন সেটা হারাতে সময় লাগবে না। কারণ এটা বাংলাদেশ, আমরা বাংলাদেশী…

আমাদের কাউকে ভালোবাসতেও টাইম লাগেনা। ছুঁড়ে ফেলতেও টাইম লাগেনা !

Comments

comments

SHARE