fbpx

ব্যক্তিত্ব সংকট : মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার

মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার আসলে এক ধরনের মানসিক রোগ। এর কারণে কোন ব্যক্তির খুব দ্রুত মেজাজ পরিবর্তন হয়, তীব্র আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, ঝোঁকের বশে ক্ষতিকর কোনো কাজ করে ফেলে। সবশেষে নিজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে।

এধরনের পারসোনালিটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই কারো সাথে সম্পর্ক স্থায়ী করতে পারে না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শৈশবে এর আঁচ পাওয়া গেলেও লক্ষণ শুরু হয় বয়ঃসন্ধিকালে। Multiple Personality Disorder এর চিকিৎসা বেশ জটিল এবং বছরের পর বছর সময় লেগে যেতে পারে। তবে আবেগ আর আচরনগত সমস্যাগুলোর ইতিবাচক পরিবর্তন আনা খুব কঠিন। বেশি সময় ধরে চিকিৎসায় অনেক লোকেরই গুরুতর রোগ লক্ষণ থেকে কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব।

মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার এর লক্ষণ

প্রায় সকলেরই আবেগ এবং আচরনগত কিছু না কিছু সমস্যা থেকেই যায়। কিন্তু মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো তীব্র আকার ধারন করে। দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে ভুগতে স্বাভাবিক জীবনকে তছনছ করে দেয়।

সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে :

  • তীব্র আবেগ এবং খুব দ্রুত মেজাজের পরিবর্তন।
  • ক্ষতিকর, আবেগতাড়িত আচরন (যেমনঃ কোন কিছু অপব্যবহার, অশ্রাব্য ভাষার ব্যবহার, গোগ্রাসে খাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত ব্যয়, ঝুঁকিপূর্ন যৌন আচরন, বেপরোয়া গাড়ি চালনা ইত্যাদি)।
  • সম্পর্ক নিয়ে সমস্যা লেগেই থাকে। কারণ খুব সামান্য ব্যাপারে কাউকে এই ভাল বলল তো পরক্ষনেই খারাপ। যার ফলে সম্পর্ক রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
  • নিজের সম্পর্কে অত্যন্ত সংকীর্ন আস্থা।
  • একাকী হওয়ার ভয়ে চরম ভীত থাকে। তাই সর্বদা কাছের লোকজনকে ধরে থাকতে চায়। এতে অনেক সময় চরম বিরক্তিকর অবস্থা সৃষ্টি হলে কাছের মানুষরাই আস্তে আস্তে দূরে সরে যায়।
  • আগ্রাসী ব্যবহার।

আরো যেসব লক্ষণ দেখা যায়, তা হলো :

  • সবসময় এক ধরনের শুন্যতা অনুভব করে।
  • হঠাৎ রেগে যায়। ক্রোধান্বিত হয়ে হিংস্র আচরন করে।
  • নিজেকেই নিজে আঘাত করতে থাকে। নিজের শরীরকে জখম করে কিংবা আগুন ধরিয়ে দেয়।
  • আত্মহত্যার চেষ্টা করে। কিছু হলেই মাথায় আত্মহত্যার ভাবনা ঘুরপাক খেতে থাকে।
  • কখনো কখনো বাস্তব জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার কেনো হয় ?

এ রোগ কেনো হয়, তার সঠিক কারণ এখনো অজানা। তবে কেউ কেউ মনে করেন মস্তিষ্কে যে সমস্ত রাসায়নিক পদার্থ মেজাজকে কনট্রোল করে তার কোনো হেরফের হলে এধরনের মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার দেখা দিতে পারে। আবার অনেক সময় দেখা যায় এটি বংশগত।

শৈশবে কোন মানসিক আঘাত থেকেও এটা হতে পারে। যেমন অবহেলা, বাবা-মা’র মৃত্যু, কোন কিছুর অমর্যাদাকর কিংবা চরম অপব্যবহার ইত্যাদি। ফলে তারা বড় হয়েও সেগুলো ভুলতে পারে না, সর্বদা উদবিগ্ন থাকে, মানসিক চাপে থাকে।

মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার এর চিকিৎসা

মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার এর চিকিৎসা খুবই কঠিন। কিছু সময়ের জন্য ভাল হলেও পুনরায় তা ফিরে আসে। অন্যদিকে চিকিৎসক কিংবা কাউন্সেলরদের সাথেও রোগীদের ভালো সম্পর্ক থাকে না। তবে কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়ে খুব ধৈর্য্য সহকারে অগ্রসর হলে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে। যেমনঃ কাউনসেলিং, থেরাপি, এন্টিডিপ্রেসেন্ট কিংবা মুড স্ট্যাবিলাইজার বা এন্টিসাইকোটিক ঔষধ প্রয়োগ, স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন যেমন পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যসম্মত খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম, এ্যালকোহল আর নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার ইত্যাদি।

বন্ধু, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের ভূমিকা

  • নিজের কারো এ ধরনের ডিজঅর্ডারে ভোগাটা মেনে নেয়া খুবই কষ্টকর। অনেক সময় অসহায় বোধ করতে হয়। তবুও ঘৃনা নয় ভালবাসা দিয়ে আর রোগটা সমপর্কে জেনে রোগীর সাহায্যে এগিয়ে এলে প্রায় ক্ষেত্রেই ভাল ফল লাভ করা যায়।
  • জানতে হবে কখন, কী ধরনের সহায়তা দরকার। তার প্রতি নজর রাখাও জরুরী। কারন এ ধরনের রোগীরা যেমন উগ্র আচরণ করে, ভাংচুর করে তেমনি আত্মহত্যার মত পথ বেছে নেয়।
  • প্রয়োজনে কাউনসেলিং, থেরাপির সহায়তা নিন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মেয়েরাই এই মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার রোগে সবচেয়ে বেশি ভুগে !

Leave a Reply

error: Content is protected !!