কফি আবিষ্কারের ইতিহাস

কফি

সকালে, দিনের শেষে, কিংবা সন্ধ্যায় বিষন্নতা কাটিয়ে উঠতে অনেকের কাছে কফিই একমাত্র সঙ্গী। অনেকের কাছেই প্রাত্যহিক জীবনের মূল একটা অংশ জ‍ুড়ে বিরাজ করছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকৃত পণ্য এই কফি। আজকের এই পোস্ট থেকে জেনে নিন আপনার প্রিয় উষ্ণ পানীয় কফির উৎপত্তির ইতিহাস ও নানাবিধ উপকারিতা সম্পর্কে!

কফি আবিষ্কারের ইতিহাস

ধারণা করা হয়, ১২০০ বছর আগে অ্যারাবিয়ান এক জনৈক ছাগল পালক এর হাত ধরেই ঘটে এর সূচনা। ছাগল চড়াতে গিয়ে সে লক্ষ্য করে ইথিওপিয়ান পাহাড় এর ঢালে জামের মত বিশেষ এক ধরণের ফল খেয়ে ছাগল গুলো বেশ চনমনে ও চাঙ্গা হয়ে উঠে। ব্যাপারটাকে সে বেশ ইন্টারেস্টিং ভাবেই নেয় এবং নিজে ট্রাই করার জন্যে মনস্থির করে। পরবর্তিতে সে ঐ গুলোকে কাচা খাওয়ার বদলে পানি দিয়ে ফুটিয়ে খাওয়া শুরু করে এবং তার নাম দেয় আল কাহওয়াহ, যা ধিরে ধিরে ঐ সময়ের সূফিদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। রাত জেগে উপাসনা করার জন্য নিজেকে সতেজ রাখতে এর চাইতে ভাল কিছু আর ছিল না। কালের বিবর্তনে আজ এই আল কাহওয়াই রূপ নেয় আমাদের সবার প্রিয় কফিতে। কফি যেমন উপাদেয় ঠিক তেমনি স্বাস্থ্যের জন্যেও প্রচুর উপকারি।

চলুন জেনে নেয়া যাক কফির নানাবিধ উপকারিতা সম্পর্কে –

কফিতে বিদ্যমান সবচাইতে সক্রিয় উপাদানটিই হচ্ছে ক্যাফেইন, যা আপনার উত্তেজনাকে অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয়। মাথা ব্যাথা হলে অনেকেরই প্যারাসিটামল এর আগে কফির কথাই মাথায় আসে। মাথা ব্যাথার উত্তম প্রতিষেধক হিসেবে কফি বেশ ভাল কাজ করে। মাথা ব্যাথা হলে আমাদের শিরা প্রসারিত হয়, এতে করে রক্ত চলাচল ও হয় প্রচুর হারে। কফি পানে সেই শিরা সংকুচিত হয়ে স্বাভাবিক অবস্তায় ফিরে আসে এবং আমাদের মাথা ব্যাথা অনেকাংশেই কমে যায়। মাথা ব্যাথা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিল রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে এই কফি।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত কফি পান করে তাদের অন্যান্যদের তুলনায় ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা থাকে কম। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে কফি শুষ্ক চোখের সমস্যা দূর করতেও বেশ কার্যকারী ভূমিকা রাখে। যারা নিয়মিত কফি পান করে তাদের হৃদরোগে ভুগতে হয় কম। চুল পড়ার সমস্যার সমাধান থেকে শুরু করে ক্যান্সার এর মত রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে এই কফি, তবে মনে রাখবেন প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে প্রতিষেধক হিসেবে নয়।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও তারুন্য ধরে রাখতেও সহায়তা করে এটি। কফিতে বিদ্যমান এন্টি অক্সিডেন্ট পৃথিবীর অন্য কোনো কিছুতেই ততটুকু নেই যতটুকু এই কফি থেকে পাওয়া যায়। কফির উপকারিতা সীমাহীন, যদিও এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। তবে অপকার এর চাইতে উপকারিতাটাই বেশি। শরীর ও মন চনমনে ও চাঙ্গা রাখতে প্রতিদিন ২/৩ কাপ কফিই যথেষ্ট।

অফিসের কাজে মনযোগ বাড়াতে কিংবা কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় নিজেকে জমিয়ে রাখতে কফিই হতে পারে আপনার একমাত্র সঙ্গী। সুতরাং আপনার এতগুলা উপকার করা কফির সাথে বন্ধুত্ব করতেই বা বাঁধা কিসের! আজকে থেকেই শুরু হোক কফির সাথে বন্ধুত্ব…

দিনটা শুরু হোক কফির সাথেই…

Comments

comments