টিজার ব্যবচ্ছেদ : ঢাকা অ্যাটাক

ঢাকা অ্যাটাক

অবশেষে মুক্তি পেলো প্রত্যাশিত, প্রতিক্ষিত চলচিত্র ঢাকা অ্যাটাকের প্রথম অফিসিয়াল টিজার।গত শনিবার ২৬শে আগস্ট টাইগার মিডিয়ার ব্যানারে মুক্তি দেওয়া হয় চলচ্চিত্রটির প্রথম, অফিসিয়াল টিজার। আর টিজারেই সারা ফেলেছে ঢাকা অ্যাটাক।

টিজারের শুরুতেই দরজা খুলতে খুলতে আরিফিন শুভর সংলাপ, “গত ১০ দিনে রহস্যজনকভাবে খুন হওয়া ডেড বডিগুলোর গায়ে পাওয়া গেছে।”

সংলাপটি জানান দেয় উদ্বিগ্ন, উৎকন্ঠায় ছেয়ে গেছে পুরো দেশ, সুরাহা করা যাচ্ছেনা একটা খুনেরও। সাথে সাথে দৃশ্যায়িত হয় খুনের চিত্রগুলো, সেখানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রয়েছে পুলিশ সদস্যও। চোখে পরে স্যাটেলাইট টেলিভিশন রিপোর্টারদের এক ঝলক আর ওদিকে পুলিশ সদস্যরা ব্যস্ত “ডগ স্কোয়াড” নিয়ে কোন অজানা রহস্য উদঘাটনে, সেই সাথে মুঠোফোন কানে উদ্বিগ্ন ডিএমপি কমিশনার আফজাল হোসেন। অন্যদিকে সাইরেন বাজিয়ে ধেয়ে চলেছে ডিএমপির তত্বাবধানে থাকা সোয়াটের (স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্স) গাড়ি।

ঢাকা অ্যাটাক Dhaka Attack
ঢাকা অ্যাটাক (অফিসিয়াল পোস্টার)

ব্যপারটা আরো একটু গুমোট বাধে দ্বিতীয় দৃশ্যে, সংবাদবাহক ছুঁটছে ক্ষিপ্র গতিতে। জোড়ালো কন্ঠে বলে চলেছে সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনামটি, “লাশের পকেটে হাসি, লাশের পকেটে হাসি।” এই একটা শিরোনাম সাধারণভাবে শুনলে কিছুই মনে হবেনা কিন্তু এর গভীরতা যথেষ্ট।

আরিফিন শুভর সংলাপটা আরেকবার দেখা যাক – “গত ১০ দিনে রহস্যজনকভাবে খুন হওয়া ডেড বডিগুলোর গায়ে পাওয়া গেছে।” ডেড বডিগুলোর গায়ে কি পাওয়া গেছে সেটা প্রথমে বোঝা না গেলেও এই শিরোনাম শুনে মস্তিষ্কটা একটু প্রসারিত করলেই বোঝা যায়, প্রতিটা লাশের সাথেই পাওয়া গেছে হাসি মানে স্মাইলি স্টিকারগুলো, যেগুলো কাজ করবে খুনের ক্লিউ হিসেবে। ধারনা করাই যায় প্রতিটা খুনের পেছনেই রয়েছে একই সংঘবদ্ধ গ্রুপ আর এখান থেকেই খেল শুরু।

তৃতীয় দৃশ্য, টেবিলে ছড়ানো ছিটানো কয়েকটা পৃষ্ঠা আর তাতে কিছু লেখা, কলম হাতে উদ্বিগ্ন শুভর দেখা মিললো একেবারে নতুন লুকে। হতবাক দৃষ্টিতে চেয়ে, হলুদ রঙের তরল পদার্থে ভরা একটা শিশির দিকে। মোটা গোফ সাথে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, বলতে গেলে পুলিশের চরিত্রে পারফেক্ট লেগেছে লুকটা।

পরবর্তী দৃশ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান ইমামের প্রশ্ন এডিসি আবিদকে (আরিফিন শুভ) খুনের মোটিভ? আর এই প্রশ্নের সাথে সাথে দৃশ্যায়িত হয় ব্যারিকেডের পাশ গলে একটা গাড়িকে ঘিরে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি। এই প্রশ্নের উত্তরে নিচু স্বরে শুভর জবাব, “এখনো জানা যায়নি স্যার।” এর মাঝে রয়েছে খুনের কোনো কূল কিনারা করতে না পারার একটা আক্ষেপ।

দৃশ্য পাঁচ, ব্ল্যাক জ্যাকেট আর প্যান্ট পরা আগন্তুকের এক বিল্ডিং থেকে আরেক বিল্ডিংয়ে যাওয়া আর মাটিতে লাফ, জিনিসটা খুব স্মার্টলি প্রেজেন্ট করা হয়েছে, অবয়ব দেখে যা বোঝা গেলো তাতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত অস্ট্রেলিয় নাগরিক তাসকিন রহমানের মতই লাগলো। খুব সম্ভবত নেগেটিভ রোল প্লে করছে আর এক ঝলকে তিনি সফল।

দৃশ্য ছয়, বেশ অনেক বছর পর, চিত্রনায়ক আলমগীরের চলচিত্রে উপস্থিতি ঢাকা অ্যাটাকের মধ্য দিয়ে। এই চলচিত্রে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি। এতো উপর মহলের একজন কর্মকর্তা হয়েও টিজারে তার সংলাপ, “এবারের ঘটনাটা অনেক বেশি ক্রিটিকাল” এই এক সংলাপের মাঝে ফুটে উঠেছে দেশ কতটা খারাপ অবস্থায় রয়েছে সেটা, চেহারায় ছিলো দুঃচিন্তার কৃষ্ণকায় ছাপ। তার ডায়ালগ ডেলিভেরির সাথে সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকটা ছিলো অসাধারণ। দৃশ্য শেষ না হতে হতেই দেখা মিললো মালয়েশিয়ান অতিথি অভিনেত্রী সেলিনা সাইবি এবং বিশেষ অতিথি শিপনের, তারা দুজন কাউকে খুঁজছে এবং কারো দিকে অস্ত্র তাক করে আছে এমন সময় শট ক্লোজ, এখানে ভাবনা থেকে যাচ্ছে কার দিকে অস্ত্র তাক করলো? কেনো? অনেক প্রশ্ন উকি দিচ্ছে এই একটা ক্লোজ আপ দৃশ্যের জন্য।

পরবর্তী দৃশ্য, দেখা গেলো ব্রুনাইয়ের এক অভিনেতাকে, রহস্যময় হাসি ছিলো তার চোখে মুখে সাথে এক্সপ্রেশন খুব ভালো না থাকলেও কোয়াইট গুড। খুব সম্ভবত নেগেটিভ রোল বাজির ঘোড়া হতেই পারেন। অষ্টম দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, সোয়াট ও বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট সদস্যরা কোন এক মিশনে যাচ্ছে আর তার পরপরই দেখা মেলে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান ইমাম সরেজমিনে গিয়ে ব্যপারগুলো খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন হয়তো। সাথে আছেন ডিএমপি কমিশনার আফজাল হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আলমগীর। আর এই দৃশ্যের ব্যাকগ্রাউন্ডে ডিএমপির কেউ বলছেন, “আমাদের ইউনিটের বেস্ট অফিসারদের এই কাজের দায়ীত্বভার দিচ্ছি।” কথাটার মাঝে গূঢ়তা রয়েছে, সবাই যখন ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে ঠিক তখনই সব সদস্যদের সেরা অফিসারদের এই কাজটির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর কারন, এই কাজে যে তারা সফলতা পাবার দাবি রাখে সেটা তারা আগেই জানান দিয়ে দিলো। দৃশ্য নয়, হেলিকপ্টার থেকে সোয়াট কমান্ডার এবিএম সুমন দুর্বিন দিয়ে কিছু একটা দেখছে সাথে বোঝার চেষ্টাটা প্রতিয়মান, ঠিক কি বুঝতে চাচ্ছে সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়নি। তবে ছিলো অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফি।

ঠিক তার পরবর্তী দৃশ্য, বন্দুকের শুটিং মনিটরে কয়েকজনকে দেখা গেলো তাস খেলতে, যা বোঝা গেলো তাতে নেগেটিভ রোল হবে হয়তো। আর এই দৃশ্য শেষ না হতে হতেই মাহিকে উদ্দেশ্য করে শুভর চিৎকার, “গেড ডাইন” বলে। আর সেই সাথে মাহিকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে কোনরকমে চলে এলো, তার সাথে সাথেই জুসের গ্লাসে বুলেটের আচড়, সাথে বেশ ভালো ক্যামেরা ওয়ার্ক ছিলো।

পরবর্তী দৃশ্যে, আরিফিন শুভকে বড় চুলে দেখা যাচ্ছে এবং সাদা পোশাক পরা সেটা খুব নিখুঁতভাবে দেখলে বোঝা যায়। যা আন্দাজ করতে পারি, তাতে বড় চুল হয়তো ছদ্মবেশের জন্য হতে পারে আর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বোঝা গেলো, শুভ মার্শাল আর্ট খুব ভালোভাবে রপ্ত করার দৃঢ় সংকল্পে অটুট আর শটটাও ছিলো ভোরের, তাই ধারনাটা ঠিক হতেই পারে।

এগারোতম দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, ট্রাফিক পুলিশের কাছে পুলিশের আরেক সদস্য খুব তড়িঘড়ি করে এসে কিছু একটা জিজ্ঞেস করলো এবং একটু পরেই ঠিক ঐ লোকের মতোই আরেক লোক অমন ড্রেসআপে ডিএমপির ফাইল কাস্টারিতে ফাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করছে। লোকটির দিকে বেশ ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখা যায় তার পরনে একটা জিন্স আর শার্ট। শুধুমাত্র উপরে ডিএমপির একটা জ্যাকেট পরা আর এখানেই খটকাটা লাগছে, লোকটি ডিএমপির কোন সদস্য হলে কেনো জিন্স আর শার্ট পরা থাকবে এবং ফাইল নিয়ে এমন সন্দেহজনক মনোভাবের জন্ম দিবে! বেশ সাসপেন্স রয়েছে দৃশ্যটিতে।

পরবর্তী দৃশ্যে, দেখা যাচ্ছে শুভ ছুঁটছে কোন এক সন্দেহভাজনের পেছনে এবং অবশেষে পা দিয়ে লাথি মেরে ফেলে দেয়। বোঝা যাচ্ছে অ্যাকশনের ফুলঝুড়ি ফুটবে পুরো চলচিত্রটি জুড়েই।

দৃশ্য তেরো, এবিএম সুমন খুবই বিচক্ষণ হাতে একে-৪৭ এবং দৃষ্টিতে শিকারীর থাবা বসানোর প্রবণতা নিয়ে চারিদিক খেয়াল করছে আর এই শটটা গো প্রো ক্যামেরা দিয়ে নেওয়া হয়েছে যেটা খুবই ছোট একটা ক্যামেরা, গায়ের সাথে লাগানো সম্ভব।

এরপরের দৃশ্যেই অন্যরকমভাবে এন্ট্রি নেন মাহিয়া মাহি, এই ধরনের আনকমন লুক আর এন্ট্রিতে বেশ ভালো লেগেছে।

দৃশ্য পনেরো, একজনের মুখ দেখা যাচ্ছে এবং ভয়নক হাসিতে তিনি বলছেন “I Think Planning This For A Long Time” টিজারটির সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং পার্ট আমার কাছে এটা। হয়তো ইনি প্রধান খলনায়ক এবং পুলিশ সদস্যরা খুব কষ্টে কিছু একটা ছক বানিয়েছিলো যা লোকটি বুঝতে পেরে যায়, এবং সে জন্য মনে হচ্ছে উদ্ভট আনন্দের এই হাসি।

পরের দৃশ্যেই দেখা যাচ্ছে, শুভর হাতে ধরা পরা সন্ত্রাসীটি বসে আছে এবং ফেইস ড্র আর্টিস্টকে বলছে হয়তো ওদের প্রধানের চেহারা অথবা তার সম্পর্কে একটা ধারনা দিচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত একটা মুখের অবয়ব দেখা যায় কিন্তু কার মুখ সেটা বোঝা কোন ভাবেই সম্ভব হয়নি। তবে এতটুকু দেখে বলাই যায় একজন অসাধরাণ খলনায়ক থাকছে এই চলচিত্রটিতে।

দৃশ্য সতের, এক ঝলক দেখা মিললো মিমো আর সাঞ্জু জনের, মিউজিকে মজাদার কিছুর আভাস ছিলো। অন্যদিকে শুভও হয়তো আসে কোন অপারেশনের কাজে এবং তার মুখোমুখি হয়ে পড়েন সাংবাদিক মাহি। পরবর্তী দৃশ্যে, সোয়াট সদস্যরা ছুঁটে চলেছে সিড়ি বেয়ে নির্মানাধিন বাড়ির উপরে, হয়তো কোন জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে। আঠারতম দৃশ্যে দেখা মিললো, বিচক্ষণ শতাব্দি এবং স্মার্ট সোয়াট কমান্ডার আশফাক দুজনের দুটো ক্লোজ আপ। এরপরের দৃশ্যতে, আরিফিন শুভ এবং মাহিয়া মাহিকে দেখা গেলো রোম্যান্টিক দৃশ্যে। খুব সম্ভবত থাইল্যান্ডের পাহাড় ঘেরা অঞ্চলেই শ্যুটটা হয়েছিলো সাথে মালয়েশিয়ার কোন সী বিচে। গানের কোরিওগ্রাফি যতটুকু দেখলাম ভালো লেগেছে তবে একটা জিনিস একটু দৃষ্টিকটু ছিলো, সেটা হচ্ছে রোম্যান্টিক গানের ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাকশন মিউজিক বাজছে কিন্তু তবুও বেশ ভালো ছিলো মাহির এক্সপ্রেশন, শুভর পারফরমেন্স, ড্রেস আপ এবং কালার কারেকশন মিলিয়ে।

দৃশ্য উনিশ, লাল-সবুজ বেলুন হাতে দাড়িয়ে হাজার হাজার স্কুল ছাত্রছাত্রীরা ব্যস্ত মানব পতাকা তৈরিতে। সবচেয়ে ভালো লাগার দৃশ্য ছিলো এটি। কেনোনা, চলচিত্রটি যখন বাইরের দেশের মানুষ দেখবে, গর্ব হবে এই ভেবে আমরা আমাদের দেশের পতাকাও তৈরি করি সেটা একসাথে মিলে আর তা আমাদের চলচিত্রের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারবে, ব্যপারটা সত্যি বলতে খুবই ভালো লাগলো।

দৃশ্য বিশ, সম্ভবত বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় অপারেশন এবং তাই ধিরে ধিরে এগিয়ে চলেছে বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ও সোয়াট টিম। পরবর্তী দৃশ্যতে দেখা যাচ্ছে স্পিড বোটে মালয়েশিয়ান অভিনেতা ফাহরিন আহমেদ এবং অভিনেত্রী সেলিনা সাইবি (মালয়েশিয়ান পুলিশের ভূমিকায় অভিনয় করছে) সমুদ্রপথে কোন এক গন্তব্যে যাচ্ছে সঙ্গে আছেন ডিএমপি কর্মকর্তা শিপন। হয়তো ডিএমপি এই জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে সাহায্য নিয়েছে ইন্টারপোলের আর তারই ফলপ্রসু রয়েল পুলিশ মালয়েশিয়া।

পরবর্তী দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, রাতের মালয়েশিয়া এবং চোখে পরলো খুব বড় সর একটা টাওয়ার। খুব সম্ভবত পেট্রোনাস টাওয়ার এটি, সাথে সাথে মালয়েশিয়ার রাস্তায় ধেয়ে চলেছে কালো রংয়ের বিএমডব্লিউ। কেমন টানটান একটা উত্তেজনায় ভরপুর সব জায়গা। আকাশে উড়ে চলেছে ডিএমপির হেলিকপ্টার, সোয়াট কমান্ডার একে-৪৭ হাতে মোকাবেলা করছে অপারেশনের, সাংবাদিকরা প্রাণ বাজি রেখে করে চলেছে সংবাদ, আলোকচিত্রিরা তুলছে ছবি, শিপনকে সাথে নিয়ে সেলিনা আর ফাহরিন আহমেদ ছুটছে টিম নিয়ে এবং আরো একটা খুন এই সময়টা স্নায়ু চাপটা ধরে রাখা বড্ড অসাধ্য ব্যপার।

ফাইনাল অ্যান্ড দ্যা লাস্ট সিন…

শেষ দৃশ্যে আরিফিন শুভ জীবনের শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে বোম্ব ডিস্পোজ করার আপ্রাণ চেষ্টা করার দৃশ্যটির সময় চিৎকারটা ছিলো অত্যন্ত প্রাণবন্ত। হেলিকপ্টার থেকে নিচের দিকে সোয়াট কমান্ডার এবিএম সুমনের অস্ত্র তাক করাটা জানান দেয় প্রফেশনালিজম এবং ডেডিকেশনকে, আরিফিন শুভর দুই হাত ছোট্ট একটা বাচ্চার মুখমন্ডল জুড়ে। এই একটা দৃশ্যতে রয়েছে ভয়, ভালোবাসা আর ওয়াদার অসাধারণ সংমিশ্রণ।

শেষ দিকে একটা অংশে দেখা যায় অক্সিজেনের মাস্ক পরা অন্তঃসত্বা নওশাবার শ্বাস-প্রশ্বাস উঠছে আর নামছে, যেটা ছিলো একদম জীবন্ত। চরিত্রের সাথে মিশতে নওশাবা শতভাগ না পারলেও লেটার মার্কস তিনি পাবেনই এবং টিজারের একদম শেষে ছিলো মোস্ট ইমপ্রেসিভ সংলাপটা, “So Let The Countdown Begin” ! কথাটার মাঝে রয়েছে অসাধারণ একটা ম্যাসেজ। পুলিশ এবং দেশদ্রোহীদের কমব্যাটটা যে জমজমাট কিছু একটা হবে তারই জানান দেয় এই সংলাপটি। আরিফিন শুভ ফোন কানে দাড়িয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বরের সামনে, সংলাপটি দেওয়ার সাথে সাথে বুম…

শাপলা চত্বর ব্লাস্ট হওয়ার হালকা একটু অংশ দেখতে পাওয়া যায় আর সাথে সাথে কাগজে পুড়ছে শহীদ মিনার, আহসান মঞ্জিল ও সংসদ ভবন, যার ভিতর দিয়ে জানান দেয়া হচ্ছে দেশের অবস্থা কতটা ক্রিটিকাল তা। টিজারের শেষ অংশটায় মূলত এই অঘোষিত কমব্যাটে দেশদোহীরাই এগিয়ে থাকলো। সবকিছু বিবেচনায় টিজারটির শেষ অংশের ব্লাস্ট আরও কিছু ছোট ছোট জিনিস বাদ দিলে বলাই যায় এটি বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসের সেরা টিজার।

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর মুক্তি পেয়েছিলো ঢাকা অ্যাটাকের ফার্স্ট লুক টিজার। সেই ফার্স্ট লুক সারা ফেলেছিলো প্রথমেই, তবে সেই টিজারকেও ছাড়িয়ে গেলো প্রথম অফিসিয়াল টিজারটি, সারা ফেলেছে দেশব্যাপী সর্বমহলে !

ছবিটিতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ, মাহিয়া মাহি, এবিএম সুমন, কাজী নওশাবা, আলমগীর, আফজাল হোসেন, হাসান ইমাম, লায়লা হাসান, মালয়েশিয়ার দুই অতিথি শিল্পী ফাহরিন আহমেদ এবং সেলিনা সাইবিসহ আরো অনেকে। চলচ্চিত্রটির কাহিনী লিখেছেন ডিএমপির বর্তমান এডিসি সানি সানোয়ার এবং পরিচালনা করেছেন দিপংকর দীপন। আগামী ৬ই অক্টোবর দেশব্যপি মুক্তি পাবে চলচ্চিত্রটি এবং দেশের বাইরে ২০শে অক্টোবর থেকে বিশটির মত দেশে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে…

Comments

comments