মার্শাল আর্টসে সারা জাগানো মুসলিম গ্র্যান্ড মাস্টার

চীনা সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ হলো ‘চাইনিজ মার্শাল আর্ট’। এটি উশু ও কুংফু নামেও পরিচিত। মূলত চীনা মার্শাল আর্টের অধিকাংশই বৌদ্ধ ধর্মালম্বী দেখা যায়। অন্যান্য ধর্মের মানুষ থাকলেও কিছু চীনা মুসলিম পরিবার মার্শাল আর্টকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। চাইনিজ মার্শাল আর্টের অঙ্গনে চীনা হুই পরিবারের (বৃহৎ চীনা মুসলিম জাতিগোষ্ঠী) অবদান অবিস্মরণীয়।

ওয়াং জি-পিং ,  তিনি ১৮৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৯৭৩ অবধি বেঁচে ছিলেন। তার জীবনকালে তিনি ‘লায়ন অব চাইনিজ কুংফু’ উপাধি পুনরুদ্ধার করে ছিলেন।  তিনি সাত বছর বয়সে নিজেই প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। লড়াইয়ের ময়দানে অনেকে তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস করেছিলেন; তবে কেউ তাকে পরাজিত করতে পারেননি। জার্মান শ্রমিকদল, একদল জুডো খেলোয়াড় ও সুলিভান নামের আমেরিকান তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেও জয়লাভ করতে পারেনি। ১৯৪৯ বিপ্লবের পরে তিনি একজন বীর হিসেবে সম্মান লাভ করেন। এছাড়াও সাংহাইয়ের মাল্টিপিসিপাল পিপলস কংগ্রেসের ডেপুটি পদে, ন্যাশনাল উশু অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও অল-চীন স্পোর্টস ফেডারেশনের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন।

হুই পরিবারের সদস্যরা ইসলামী আকিদা-বিশ্বাস ও চীনা ঐতিহ্য-সংস্কৃতির মিশেলে নিজেদের অনন্য করে তুলেছিলেন। হুইরা মার্শাল আর্টসে একটি মিশ্র প্রক্রিয়ার ধরন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। তারা মার্শাল আর্টসে নতুন গ্র্যান্ড মাস্টারদের জন্ম দিয়েছিল। উশু-কুংফুর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাটা তাদের জন্য কোনো ব্যাপারই ছিলো না।

হুই মার্শাল আর্ট জগতের অন্যতম একজন হলেন, মুসলিম গ্র্যান্ডমাস্টার মা জিয়াঁদা। ম্যা জিয়াঁদার জন্ম ১৯৩৩ সালে চীনের হেবেই প্রদেশে। তিনি মার্শাল শিল্পীদের বিশিষ্ট হুই পরিবারের ষষ্ঠ প্রজন্মের সন্তান।

চীনা মার্শাল আর্টকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেওয়া মুষ্টিমেয় গ্র্যান্ড মাস্টারদের ‘নবম দুয়ান’ ছিলেন। তিনি প্রথম ও সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে এই র‌্যাঙ্কটি অর্জন করেছিলেন।  জিয়াঁদা প্রচুর ঐতিহ্যবাহী উশু-শৈলী, বক্সিং ও মঙ্গোলিয়ান কুস্তি (শুয়াজ জিয়ান) এবং ফেন্চিং (অসি-তরবারি চালনা) শিখেছিলেন। অনুমান করা হয়, যে তিনি কর্মজীবনে প্রায় ১০ হাজার শিষ্য-শিক্ষার্থীকে মার্শাল আর্ট শিখিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রখ্যাত জা চানজুন ও জেট লিও রয়েছেন।

১৯৮০ সালে তিনি মার্শাল আর্ট কোচ এবং জেট লি অভিনীত ‘দ্য শাওলিন টেম্পল’ চলচ্চিত্রের প্রধান কোরিওগ্রাফার হন। তারপরে তার বিশেরও বেশি শিক্ষার্থী উ ইয়ং, ‘মার্শাল হিরো’ উপাধি অর্জন করেছিলেন। এই উপাধী-পুরস্কারটি এমন অ্যাথলেটদের দেওয়া হয়, যারা চীনের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে শীর্ষ তিনে একাধিক স্থান অর্জন করেছেন।